বৃদ্ধ খুনের ১৭ দিন পর গ্রেপ্তার বর্ধমানের কলেজ ছাত্র

231

বর্ধমান: নেশার টাকা চেয়ে না পেয়ে বৃদ্ধকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার এক কলেজ ছাত্র। বর্ধমানের তেজগঞ্জের আশি উর্ধ্ব বৃদ্ধ গোরাচাঁদ দত্তকে খুনের ঘটনার ১৭ দিন বাদ খুনির নাগাল পেল বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃতের নাম রথিন দত্ত(২০)। ওই যুবক বর্ধমানের বিবেকানন্দ কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। বৃদ্ধর বাড়ির কাছেই তার বাড়ি। শুক্রবার বিকালে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার ধৃতকে পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। বিচারক ৩০ জুলাই পর্যন্ত ধৃতকে জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে বৃদ্ধর পরিবার।

বর্ধমান শহরের তেজগঞ্জ স্কুল পাড়ায় বাড়ি দুর্গাপুরের ডিএসপির অবসরপ্রাপ্ত কর্মী গোরাচাদ দত্ত-র। গত ২ জুলাই বিকালে বাড়িথেকে উদ্ধার হয় বৃদ্ধ গোরাচাঁদ দত্ত-র রক্তাত মৃতদেহ। ঘরের মেঝেতে পড়েছিল বৃদ্ধর মৃতদেহ। ওই দিন গোরাচাঁদ বাবু বাড়িতে একাই ছিলেন। তাঁর স্ত্রী মীরা দত্ত ওইদিন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বর্ধমনের জিলিপি বাগান নিবাসী বোনের বাড়িতে। ওই দিন বিকালে বাড়ি ফিরে মীরাদেবী দেখেন তাঁদের বাড়ির সদর দরজা খোলা রয়েছে। বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে হলুদ গেঞ্জি পরা এক যুবক। দরজা কেন খোলা, কী হয়েছে তা মীরাদেবী ওই যুবকের কাছে জানতে চান। ঘরে ঢুকে দেখুন বলে জানিয়ে ওই যুবক সেখান থেকে চলে যায়।

- Advertisement -

এরপর মীরাদেবী ঘরে ঢুকে দেখেন খাটের কাছে ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছে তাঁর স্বামীর রক্তাত মৃতদেহ। দরজার সামনে পড়েছিল টিভি। আলমারি খোলা, বিছানা ওলটপালট অবস্থায় ছিল। ঘরের জিনিষপত্র ও আসবাব সহ সমস্ত কিছু তছনছ অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়। ময়নাতদন্তে পাঠানো হয় মৃতদেহ। ঘরের সবকিছু খতিয়ে বৃদ্ধকে খুন করা হয়েছে বলেই নিশ্চিৎ হন পুলিশ কর্তারা। খুনের ঘটনার পরদিন সিআইডির ফিঙ্গার প্রিন্ট বিশেষজ্ঞ শুভাশিস হালদার ও শৈবাল দত্ত বৃদ্ধর বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন।

ফের ১১ জুলাই বৃদ্ধ খুনের ঘটনার তদন্তে বর্ধমানে পৌছায় সিআইডি’র তিন সদস্যের টিম। তারাও বৃদ্ধর বাড়ি থেকে নানা নমুনা সংগ্রহ করেন। যে ঘরে বৃদ্ধর মৃতদেহ পড়েছিল, সেই ঘর তন্নতন্ত করে খতিয়ে দেখেন সিআইডির দুই ফরেন্সিক অফিসার হরেন্দ্রনাথ সিংহ ও তীর্থঙ্কর সরকার। সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান থানার আইসি পিন্টু সাহা ও এসডিপিও(সদর) শৌভিক পাত্র। তার পরেই শুরু হয় অপরাধীর স্কেচ তৈরির যাবতীয় প্রক্রিয়া। অবশেষে বুধবার বিকালে বৃদ্ধ খুনে অভিযুক্ত কলেজ ছাত্র রথিন দত্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় এদিন বলেন, “রথিনদের বাড়িথেকে দুধ আনতে যেতেন গোরাচাঁদ দত্ত। সেই সূত্রেই রথিনের সঙ্গে গোরাচাঁদ বাবুর আগে থেকেই পরিচয় ছিল। নেশার টাকার জন্য ওইদিন রথিন যায় গোরাচাঁদ দত্তের বাড়িতে। রথিন নেশাগ্রস্ত অবস্থাতেই বাড়িতে একা থাকা গোরা চাঁদ বাবুর কাছে যায়। গোরাচাঁদ বাবু রথিনকে নেশার টাকা দিতে অস্বীকার করে।

তখন দু’জনের বচসা শুরু হয়। পুলিশ সুপার বলেন, বাগবিতণ্ডা চলার সময়ে হঠাৎই করে রথিন ধারালো অস্ত্র দিয়ে বৃদ্ধের গলায় আঘাত করে। তাতেই গোরাচাঁদ বাবুর মৃত্যু হয়। এরপর রথিন বিছানার তলা থেকে আলমারির চাবি বের করে আলমারি খুলে টাকা পয়সা খোঁজে। কিন্তু সে টাকা পয়সা কিছুই পায় নি। বৃদ্ধের মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায় রনিথ।

পুলিশ সুপার জানান, নেশার জন্য টাকা চেয়ে না পেয়েই গোরাচাঁদ দত্তকে খুন করে পালিয়েছিল রথিন। এরপর রথিনকে তার বাবা রতন দত্ত নেশা মুক্তি কেন্দ্রে দিয়ে আসে।

এদিন রথিনের বাবা রতন দত্ত বলেন, তাঁর ছেলে রথিন বেশ কয়েক বছর হল নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। নেশার অর্থ জোগাড়ের জন্য প্রতিবেশীদের বাড়িতে চুরি করা শুরু করে। রথিনের কাছ থেকে হেরোইন মেলার পর ওকে নেশা মুক্তি কেন্দ্রে দিয়ে আসেন।’