ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন চিকিৎসক, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

264

চ্যাংরাবান্ধা: কার্যত একজন চিকিৎসকের উপর ভর করে চলছে মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। আর এই নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষজন। তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই চ্যাংরাবান্ধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা পরিষেবার উপর সংলগ্ন এলাকার প্রচুর মানুষ নির্ভরশীল। কিন্তু প্রায়ই চিকিৎসকের অভাবে মানুষ সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অন্যদিকে, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রেই জানা গিয়েছে, বর্তমানে একজন মাত্র স্থায়ী চিকিৎসক রয়েছেন। মেখলিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতাল থেকে আরেকজন চিকিৎসক এসে সপ্তাহে তিনদিন রোগী দেখছেন। আবার যিনি স্থায়ী চিকিৎক রয়েছেন তাকে বিএমওএইচ-এর দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। কারণ, স্থায়ী বিএমওএইচ বর্তমানে এখানে নেই। যার কারণে তাকে রোগী দেখার পাশাপাশি প্রশাসনিক দিকটাও সামাল দিতে হচ্ছে।

- Advertisement -

যার জেরে কখনও কখনও একজন চিকিৎসককেই টানা তিন-চারদিন অবধি ডিউটি পালন করতে হচ্ছে। এতে পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঝেমধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমসিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় বহির্বিভাগেও চিকিৎসা করাতে আসা বিভিন্ন রোগী এবং তাদের আত্মীয়স্বজনরাও এইসব নানা অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এতে মাঝেমধ্যে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে।

হাসপাতালের চিকিৎসক তথা বিএমওএইচএর দায়িত্বে থাকা ডাঃ উত্তম রায়ের নিকট এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অবশ্য বলেন, ‘তাঁরা তাদের দায়িত্ব পালনে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখছেননা।বিভিন্ন বিষয়ের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।‘

চ্যাংরাবান্ধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ত্রিশটি শয্যার ব্যবস্থার কথা বলা হলেও সেটা আজ অবধি হয়নি। বিভিন্ন মহলের তরফে এটিকে গ্রামীণ হাসপাতালে উন্নীত করার দাবির কথা বলা হলেও সেই দাবি পূরণ হয়নি। যদিও স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, শয্যা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উন্নয়নের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। ইতিমধ্যেই সীমানা প্রাচীর, অতিরিক্ত ভবন নির্মাণসহ পরিকাঠামোগত বিভিন্ন উন্নয়নের কাজও করা হয়েছে। বাকি সমস্যাগুলিও সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

একাংশের অভিযোগ নানা সমস্যার কারণে বর্তমানে সামান্য রোগ হলেও রোগীদের অন্যত্র রেফার করে দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় সকলেই চ্যাংরাবান্ধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা পরিষেবা চাঙ্গা করার পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়নগুলির কাজও দ্রুতও শুরু করার দাবি করেছেন।

চ্যাংরাবান্ধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিপিএমও। এনিয়ে তাঁরা একাধিক অভিযোগও করেছেন। সিপিএমএর মেখলিগঞ্জ ২ নং এরিয়া কমিটির সম্পাদক দীপক গুহ বলেন, ‘চ্যাংরাবান্ধা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনও সময়েই পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকেন না। বর্তমানে সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এইসব বিষয়ে ইতিপূর্বেও তারা বিভিন্ন মহলে স্মারকলিপি দিয়েছেন। চিকিৎসা পরিষেবা চাঙ্গাসহ এইসব একাধিক দাবিতে তাঁরা পুনরায় আন্দোলনে নামবেন।‘