পঁচিশ হাজার মানুষের চিকিৎসার জন্য একজন ডাক্তার! ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

391

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ: প্রায় পঁচিশ হাজার মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার জন্য মাত্র একজন এলোপ্যাথি চিকিৎসক রয়েছেন। তিনি আবার রোগী দেখেন সপ্তাহে মাত্র তিনদিন। বাকি তিনদিন ভরসা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। করোনা পরিস্থিতিতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককেও কোভিড সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত করে দেওয়ার কারণে ওই হাসপাতালে সপ্তাহে মাত্র তিনদিন চিকিৎসা পরিষেবা মেলে। বাকি দিনগুলি ভগবান ভরসা। এমনটাই অবস্থা মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা কুচলিবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় মানুষজন। এই প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা পরিষেবা-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কুচলিবাড়ির মানুষের অভিযোগের শেষ নেই।

তারা জানিয়েছেন, টানা প্রায় দু’বছর ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্র চিকিৎসক শূন্য ছিল। বর্তমানে চিকিৎসা মিললেও পরিকাঠামোগত নানা সমস্যায় জর্জরিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র। চিকিৎসকের অভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঝেমধ্যে সাফাই কর্মীকে বাধ্য হয়ে রোগীকে ওষুধ দিতে হয়। অভিযোগ, সমস্যার কথা স্বাস্থ্যদপ্তরসহ নানা প্রশাসনিক মহলে বারংবার জানানো হলেও কোনও লাভ হচ্ছে না। এদিকে বেহাল অবস্থার কারণে এখন রোগীদের একাংশ ওঝা, কবিরাজদের উপর ভরসা রেখেছেন। তাদের আরও অভিযোগ, সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও অনুন্নত। জরুরি পরিষেবার জন্য রোগীদের দ্রুত দূরবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। সব কিছু জেনেও এবিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনও হেলদোল নেই। এখনও মাঝেমধ্যে চিকিৎসক ছাড়াই স্বাস্থ্যকেন্দ্র চলার অভিযোগ রয়েছে। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থায়ী আরও চিকিৎসক নিয়োগ সহ পরিকাঠামো চাঁঙ্গা করার দাবিতে ফের সোচ্চার হয়েছেন গ্রামবাসী।

- Advertisement -

এনিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দিয়েছে বিজেপি যুবমোর্চা। সংগঠনের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক তথা কুচলিবাড়ির বাসিন্দা জ্যোতিবিকাশ রায় বলেন, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায়ই চিকিৎসক থাকেন না। স্বাস্থ্য পরিষেবা বলতে কিছুই নেই। সব জেনেও এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চুপচাপ বসে রয়েছেন। এনিয়ে শীঘ্রই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখানে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। পরিষেবার বালাই নেই। তিনবিঘা চুক্তি কার্যকরের সময় ১৯৯২ সালে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার ঢাকঢোল পিটিয়ে কুচলিবাড়ী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করে।

এখনও পর্যন্ত শয্যার ব্যবস্থা চালু হয়নি। যদিও এইসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। বর্তমানে সপ্তাহে তিনদিন হোমিওপ্যাথী এবং বাকি তিনদিন এলোপ্যাথি চিকিৎসক বহির্বিভাগে রোগী দেখছেন বলে মেখলিগঞ্জ মহকুমা স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে জানান হয়েছে। তবে এনিয়ে মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিএমওএইচ ডাঃ কৃষ্ণ কান্ত মন্ডল কোনও মন্তব্য করেননি।