জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : প্রতি মাসে ৩০০-র বেশি মৃতদেহ দাহ হয়। দুটি বৈদ্যুতিক চুল্লির মধ্যে একটি চুল্লি দীর্ঘ একবছর ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। একটি চুল্লিই ভরসা। এই চুল্লিটি বিকল হলে মৃতদেহ দাহ করতে হবে কাঠ জ্বালিয়ে। আবার কাঠেরও তীব্র সংকট। একটি চুল্লি চালু থাকায় মৃতের পরিবারের সদস্যদের দেহ নিয়ে দীর্ঘ সময় শ্মশানে অপেক্ষা করতে হয়। শ্মশানযাত্রীদের ভবন নির্মাণের কাজ দীর্ঘ চার বছরেও শেষ হয়নি। শ্মশানকর্মীরা চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে দিনযাপন করছেন। জলপাইগুড়ির মাসকালাইবাড়ি শ্মশানের এই বেহাল দশায় বিরোধীরা সরব হয়েছেন ।

জলপাইগুড়ি পুর এলাকার ২৫টি ওয়ার্ডের পাশাপাশি সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা মৃতদেহ দাহ করতে মাসকালাইবাড়ি শ্মশানের উপর নির্ভরশীল। করলা নদীর ধারে রয়েছে এই শ্মশানটি। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ২০০৭ সালে ১৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য জলপাইগুড়ি মাসকালাইবাড়ি শ্মশানের বৈদ্যুতিক চুল্লির উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে আরও একটি বৈদ্যুতিক চুল্লি নির্মাণ করা হয়। শ্মশানের রেকর্ড অনুসারে, বিগত তিন মাসে ৯০০-রও বেশি মৃতদেহ দাহ হয়েছে। গড়ে প্রতি মাসে ৩০০-র বেশি মৃতদেহ দাহ হয়। কিন্তু মাত্র একটি চুল্লিতেই দাহ কাজ হচ্ছে। দীর্ঘ একবছর কেটে গেলেও বিকল চুল্লিটি মেরামতির কোনও উদ্যোগ পুর কর্তৃপক্ষ নেয়নি।  ফলে মৃতের পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দুর্ভোগ বাড়ছে। শ্মশান চত্বরে ৪৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে শ্মশানযাত্রীদের জন্য ভবন নির্মাণের কাজ চার বছর আগে শুরু হলেও তাও এখনও শেষ হয়নি। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল শ্মশানকর্মীদের জন্য কোয়ার্টার নির্মাণের। কিন্তু সেই নির্মাণের জন্য একটি ইটও গাঁথা হয়নি।

- Advertisement -

জলপাইগুড়ি পুরসভার সিপিএমের কাউন্সিলার প্রদীপ দে অভিযোগ করেন, সচল চুল্লিটির উপর অস্বাভাবিক চাপ। চুল্লিটি বিকল হয়ে গেলে কাঠ পুড়িয়ে মৃতদেহ দাহ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে করলা নদী দূষিত হবার আশঙ্কা রয়েছে। বিকল চুল্লিটি অবিলম্বে সচল করা উচিত। শ্মশানযাত্রীদের ভবন কবে সম্পন্ন হবে সেটাও দেখার। জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নির্মল ঘোষদস্তিদার বলেন, শ্মশানের পরিষেবার মান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নত করা উচিত। দীর্ঘ একবছর ধরে একটি চুল্লি বিকল হয়ে আছে। অথচ কর্তৃপক্ষের কোনও হেলদোল নেই।

এ প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ (পূর্ত) সন্দীপ মাহাতো বলেন, দ্রুত শ্মশানবন্ধুদের ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হবে। বিকল চুল্লি সংস্কারের বিষয়ে পুর কর্তৃপক্ষ তৎপর। শ্মশানকর্মীদের জন্য কোয়ার্টার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।