দু’মাস ধরে কোয়ারান্টিন সেন্টারে ঠাঁই নাবালিকার, বাড়ি যাওয়ার আর্জি

288

সুভাষ বর্মন, শালকুমারহাট: মালদার এক নাবালিকা প্রায় দু’মাস ধরে আটকে রয়েছে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের একটি কোয়ারান্টিন সেন্টারে। জানা গিয়েছে, সে কোনওভাবে মালদা থেকে ট্রেনে করে আলিপুরদুয়ারে পৌঁছায়। তারপর পুলিশ ও স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে তাকে কোয়ারান্টিন সেন্টারে রাখা হয়। সে এখন বাড়ি যেতে চাইছে। তবে প্রশাসন এখনও সঠিকভাবে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে উঠতে পারেনি।

এদিকে, নাবালিকাকে বাড়ি ফেরানোর জন্য শালকুমারহাটের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আলিপুরদুয়ার-১’এর বিডিওর কাছে আবেদন জানিয়েছে। ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুত ওই নাবালিকাকে বাড়ি পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, দু’মাস আগে মালদা থেকে ট্রেনে করে আলিপুরদুয়ারে পৌঁছায় ওই নাবালিকা। পুলিশ তাকে স্টেশন থেকে উদ্ধার করে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের কোয়ারান্টিন সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নাবালিকার অনেক আগেই সোয়াব পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছে। ধীরে ধীরে এই কোয়ারান্টিন সেন্টারের আবাসিকরা বাড়ি চলে গেলেও এই নাবালিকা এখনও সেখানেই রয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর বিষয়টি ব্লক প্রশাসনকে অনেক আগেই জানিয়েছিল। কিন্তু নাবালিকার বাড়ির সঠিক ঠিকানা জানতে না পারায় ব্লক প্রশাসনও তাকে বাড়িতে পাঠাতে পারছে না। এদিকে, বাড়ি ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছে ওই নাবালিকা।

বিষয়টি জানতে পেরে সম্প্রতি ওই কোয়ারান্টিন সেন্টারে গিয়ে নাবালিকার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শালকুমারহাট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক কানাইলাল দাস। ওই নাবালিকার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বাইসা গ্রামে তার বাড়ি। সে দু’মাস আগে ট্রেনে করে কীভাবে মালদা থেকে আলিপুরদুয়ারে পৌঁছায় সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছে না। রহিমা বলে, ‘ট্রেনে করে কীভাবে এখানে পৌঁছালাম বুঝতে পারিনি। অনেকদিন হয়ে গেল। এখন আমি বাড়ি যেতে চাই।’

শালকুমারহাট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক কানাইলাল দাস বলেন, ‘যেভাবেই হোক এই নাবালিকাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে। এজন্য বিডিওকে পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছি।’

এ প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের বিএমওএইচ ডাঃ ভাস্কর সেন বলেন, ‘ওই নাবালিকার অনেক আগেই সোয়াব পরীক্ষা করা হয়েছে। সেই রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছে। ওকে পুলিশ এখানে পাঠিয়েছিল। এখন আমরা তো ওকে বাড়ি পাঠাতে পারছি না। বিষয়টি ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছি।’

আলিপুরদুয়ার-১’এর বিডিও অমরজ্যোতি সরকার বলেন, ‘ওই নাবালিকার বাড়ির ঠিকানা স্পষ্টভাবে জানা যাচ্ছে না। ওর কথাবার্তাতেও অসংলগ্নতা রয়েছে। তবু ওকে দ্রুত বাড়িতে পাঠানোর চেষ্টা চলছে।’