হিন্দু যুবকের রক্তে প্রাণ বাঁচল মুসলিম শিশুর, সম্প্রীতির নিদর্শন চাঁচলে

378

মুরতুজ আলম, চাঁচল: এক হিন্দু যুবক রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন এক মুসলিম শিশুর। চাঁচল-১ ব্লকের খরবা গ্রাম পঞ্চায়েতের সাহাবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমানের ছেলে মোশারফ আলি(১৩) রক্তক্ষরণ অসুখে আক্রান্ত। মঙ্গলবার শিশুটির শরীরে রক্তের অভাব দেখা দিলে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে এ নেগেটিভ রক্ত মজুত না থাকায় চরম সংকটে পড়েন শিশুটির পরিবার।

এরপর শিশুটির পরিবার ছেলের রক্তের জন্য সামাজিক মাধ্যমের দ্বারস্থ হন। সামাজিক মাধ্যমে খবর পেয়ে শিশুটির পাশে দাঁড়ান ‘উত্তরধ্বনি’ ও ‘দিশা মানবিকতার দিকে’ নামে দুই স্বেচ্ছাসেবক সংস্থার সদস্যরা। তাঁরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন ‘গৌড়বঙ্গ ইউনিভার্সিটি ব্লাড হেল্প’ এর সদস্য বিপুল রায়ের সঙ্গে। বিপুলের এ’ নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটে। গৌড়বঙ্গ বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র। আর দেরি না করে তিনি সোজা বাইক নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট থেকে রওনা দেন চাঁচলের উদ্দেশ্যে। প্রায় ১১০ কিমি বাইক চালিয়ে এসে বিপুল রায় মোশারফ আলিকে রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচান।

- Advertisement -

রক্তদাতা বিপুল রায় বলেন, ‘শিশুটিকে রক্ত দিতে পেরে খুব খুশি। তার নৈতিক দায়িত্ব এটা। বেশি কিছু করিনি। আর মোশারফ আমার ভাইয়ের মত। একবার নয় আবারও লাগলে রক্ত দেব। মানুষ হয়ে মানুষের বিপদে এগিয়ে যাওয়া কর্তব্য।’ মোশারফের বাবা মজিবুর রহমান জানান, বিপুল রায় এই সময় আমার পাশে না দাঁড়ালে ছেলেকে বাঁচাতে পারতাম না। আমি তাদের কাছে চিরঋণী হয়ে থাকব।

তিনি বলেন, ‘উত্তরধ্বনি’ ও ‘দিশা মানবিকতার দিকে’ সদস্যদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। হঠাৎ করে ছেলের রক্তের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। লকডাউনের মধ্যে রক্ত জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব ছিল। ছেলের রক্তের কথা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়ি। মানবিকতা আজও বেঁচে আছে তা আবারও প্রমাণিত হল। মনুষ্যত্ব মানুষের মন থেকে এখনও মুছে যায়নি। যদি বিবেক, মানবিকতা আর মনুষ্যত্বের রং ফিকে হয়ে যেত তাহলে মুসলিম শিশু মোশারফ আলির(১৩) প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়তেন না হিন্দু যুবক বিপুল রায়। বিপুল রায়ের এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন চাঁচললের সর্ব স্তরের মানুষ।’