ফের অশান্ত পাহাড়, বিনয় তামাং গোষ্ঠীর নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ

541

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, দার্জিলিং: বিমল গুরুং সক্রিয় হতেই গন্ডগোল শুরু হল পাহাড়ে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিমলের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত তাকভরের বার্নেশবেগ চা বাগান এলাকায় বিনয় তামাং গোষ্ঠীর এক যুব নেতাকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিমল গোষ্ঠীর নেতাদের বিরুদ্ধে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই যুব নেতাকে এলোপাথারি কোপানো হয়েছে বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দার্জিলিং সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত নেতার নাম চেতন থাপা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে শিলিগুড়িতে রেফার করা হয়েছে। মাটিগাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ঘটনায় বিমল গোষ্ঠীর ৭ জনের নামে দার্জিলিং সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন চেতন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন বিনয়পন্থী মোর্চার দার্জিলিং মহকুমা কমিটির সভাপতি অলোককান্তমণি ঠুলুং।

- Advertisement -

হাসপাতালে আসার পর চেতন থাপা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে বার্নেশবেগ চা বাগান এলাকায় বিমল পন্থী মোর্চার একটি মিটিং হয়। সেখানে আশেপাশের এলাকা থেকে মানুষজন এসেছিলেন। সেই মিটিং শেষ হওয়ার পরই ধারালো অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বিমল গোষ্ঠীর নেতা, সর্মথকরা রাস্তায় চিৎকার করতে থাকেন। সেই সময় তিনি ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁকে দেখেই ঝাঁপিয়ে পড়েন উত্তেজিত ওই নেতা-কর্মীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার তাকভর এলাকায় দুটি মিটিং করেন বিমলপন্থী মোর্চা নেতারা। তারপর ওই এলাকায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তাঁদের একটি পার্টি অফিস খুলে সেখানে পতাকা তুলে দেন। বিমলপন্থী মোর্চার তাকভর এলাকার নেতা ডম্বর থাপা বলেন, ‘বিনয় তামাংরা বুঝতে পেরেছেন তাঁদের দিন ফুরিয়ে আসছে। তাই মিথ্যা মামলায় আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। আমাদের কোনও কর্মী কোনওরকম গন্ডগোলের সঙ্গে যুক্ত নন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই আমাদের মিটিং করেছি। পরিকল্পনা করে আমাদের ফাঁসানো হচ্ছে।’

বিনয় তামাং বলেন, ‘পুলিশ যে পার্টি অফিস বন্ধ করে দিয়েছিল আইন ভেঙে সেই অফিস খোলা হয়েছে। আমাদের যুব নেতাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বিমল গুরুং ফের পাহাড়কে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। এর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিরোধ তৈরি করব। আক্রমণকারীদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি করছি।’

তিন বছর পর প্রকাশ্যে এসেছেন বিমল গুরুং। তৃণমূলের সঙ্গে জোট বেঁধে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করার কথাও ঘোষণা করেছেন। বিমলের পাহাড়ে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হতেই তাঁর অনুগামীরাও সক্রিয় হয়েছেন। তারপরই গন্ডগোলের ঘটনায় ফের পাহাড়ের আকাশে অশান্তির কালো মেঘ ঘনাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের একাংশ।