যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সিতে স্নাতকে প্রচুর আসন খালি

কলকাতা : যাদবপুর বা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন ছাত্রছাত্রীরা। শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়, ভিন রাজ্য, এমনকি অন্য দেশের পড়ুয়াদের কাছেও এই দুই বিশ্ববিদ্যালয় ভালো মানের পড়াশোনার জন্য আকর্ষণীয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি আরও অনেক কিছুর মতো শিক্ষাক্ষেত্রে নানা অঘটন ঘটিয়ে চলেছে।

নাহলে কি এমন হওয়া সম্ভব যে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকস্তরের কলা বিভাগে বেশ কিছু বিষয়ে অর্ধেক আসন এখনও খালি পড়ে আছে? ওই বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করেও সব আসন পূরণ করতে পারেনি। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন পূর্ণ করতে ষষ্ঠ রাউন্ডের ভর্তিপ্রক্রিয়া চলছে। অধ্যাপকদের অনেকে বলছেন, যেহেতু এবছর উচ্চমাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে, সেজন্যই এত আসন খালি পড়ে রয়েছে।

- Advertisement -

সাধারণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি স্নাতক স্তরে ভর্তির জন্য আলাদা পরীক্ষা নেয়। যেসব ছাত্রছাত্রী ২০১৯ অবধি উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব ভর্তির পরীক্ষা, দুটিতেই ভালো ফল করেন, শুধুমাত্র তাঁরাই এতদিন ভর্তি হতে পারতেন। অধ্যাপকদের আরেকটি অংশ মনে করেন, কাউন্সেলিং অনলাইনে হওয়ার জন্যই এত আসন খালি পড়ে রয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় মেধাতালিকায় যাঁরা স্থান পেয়েছেন, তাঁরা ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ভর্তি হতে পারবেন। তারপরও আসন খালি থাকলে তৃতীয় তালিকা প্রকাশিত হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর। বিজ্ঞান বিভাগে অনলাইন ভর্তি শুরু হবে ২ নভেম্বর থেকে। জানা গিয়েছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে ৪৩টি, অর্থনীতিতে ৫০টি, সোশিওলজিতে ৪৪টি, তুলনামূলক সাহিত্যে ৬০ ও ইতিহাসে ৫৩টি আসন খালি রয়েছে।

এক অফিসার বলেন, যেহেতু এবছর উচ্চমাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করা হয়েছে, সেজন্য এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক ছাত্রছাত্রী নির্দিষ্ট বিষয়ে ভালো ফল করলেও ওই বিষয় নিয়ে হয়তো পড়তে আগ্রহী হচ্ছেন না। সেজন্যই ভর্তির প্রথম রাউন্ডের পর এত আসন খালি রয়ে গিয়েছে। গতবছর পর্যন্ত ভর্তির জন্য সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে হত। মেধাতালিকায় নাম থাকলেও আগে এলে আগে আসন নীতির ভিত্তিতে ভর্তি করা হত। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ও অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রেসিডেন্সির এক অফিসার জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সব বিষয়ে আসন খালি রয়েছে। তাই আরেকটি মেধাতালিকা প্রকাশ করা হতে পারে প্রেসিডেন্সিতে।