অধ্যাপকের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে পাশ করিয়ে দেওয়ার ঘটনার অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত কমিটির বৈঠক

586

শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অমিতাভ কাঞ্জিলালের বিরুদ্ধে ওঠা টাকা নিয়ে পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত কমিটির বৈঠক হল। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে গঠিত বিভাগীয় তদন্ত কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয়।

বৈঠকের পর অমিতাভ কাঞ্জিলাল বলেন, ‘যা বলার তদন্ত কমিটির সামনে বলব।’ এই বিষয়ে তদন্ত কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান ড: ঝিনুক দাশগুপ্ত বলেন, ‘এটা পুরোটাই কলেজের নিজস্ব ব্যাপার। সমস্ত গোপনীয়তা বজায় রেখেই তদন্ত চলছে।’

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, টাকা নিয়ে পরীক্ষায় পাশ করানোর অভিযোগ উঠেছিল শিলিগুড়ি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধানের বিরুদ্ধে। অধ্যাপকের অডিও কাণ্ডে একের পর এক তথ্য প্রকাশ্যে আসে। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অধ্যাপকের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে স্মারকলিপি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী ও শিলিগুড়ি কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষক।

ঘুষ চাওয়ার ঘটনায় প্রথম উত্তরবঙ্গ সংবাদের কাছে মুখ খোলেন অভিযোগকারী ছাত্রী নিশা পাসোয়ান ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের কাছ থেকে এমন কিছু তথ্য জানা যায় যা তদন্তের মোড় ঘুড়িয়ে দিতে পারে বলেই মনে করে পুলিশ আধিকারিকরা। নিশার দাদা বিকি পাসোয়ান বলেন, তিনদিন নিশার সঙ্গে অমিতাভ কাঞ্জিলালের কথা হয়েছিল। ৯ জুলাই প্রথমবার কথা হয়। সেই দিনের কথোপকথনের রেকর্ডই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। জুলাই মাসের কথোপকথনের রেকর্ড কেন দুমাস পর প্রকাশ্যে আনা হল সেই প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রীর বাবা। সেই বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

শিলিগুড়ি কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিশা স্নাতকস্তরের পুরোনো ব্যবস্থাপনার (১+১+১) পাশ কোর্সের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রী। ২০১৭ সালে তিনি পার্ট-১ এর পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তবে ২০১৯ সালের চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পাশ করতে পারেননি। ফলে তিনি অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসাবেই চলতি বছর পরীক্ষায় বসার আবেদন করেছিলেন। শুরুতে শিক্ষা দপ্তরের তরফে বলা হয়েছিল চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পরীক্ষা না হলে পরীক্ষার্থীদের আগের বছরের প্রাপ্ত নম্বর এবং ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে নম্বর দেওয়া হবে। নিশা জানিয়েছেন, যেহেতু তিনি নিয়মিত পরীক্ষার্থী নন, তাই তাঁর ক্ষেত্রে কী হবে সেটা জানার জন্যই কলেজের ওয়েবসাইট থেকে ফোন নম্বর নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান অমিতাভ কাঞ্জিলালকে ফোন করেছিলেন। অভিযোগ, তারপরই পাশ করিয়ে দেওয়ার জন্য টাকা চান ওই অধ্যাপক।

নিশা আরও বলেন, কথোপকথনের অডিওগুলি আমি পূর্বপরিচিত শিলিগুড়ি কলেজের এক ছাত্রনেতাকে পাঠিয়েছিলাম। তারপর ওই বিষয় নিয়ে আর মাথা ঘামাইনি। নিশার বাবা রাজেন্দ্র পাসোয়ান বলেন, অধ্যাপক অন্যায় করেছেন, সেটা ঠিক। তবে হঠাৎ করে কেন দুমাস আগের অডিও ভাইরাল হল, তা বুঝতে পারছি না। আমার মেয়ে কোনও অভিযোগ জানানোর জন্য অডিওগুলি ওর পরিচিত ওই ছাত্রনেতাকে পাঠায়নি। ভাইরাল করার আগে একবারের জন্যও আমাদের সঙ্গে কথা বলেননি ওই ছাত্রনেতা। আমরা তো সব ভুলেই গিয়েছিলাম। অভিযুক্ত অধ্যাপকের শাস্তি হওয়া উচিত। তবে ওই ছাত্রনেতার উদ্দেশ্যও পুলিশের খতিয়ে দেখা উচিত।

অডিও কাণ্ডের তদন্তে নেমে অভিযোগকারী ছাত্রীর মোবাইল ফোন নিজেদের হেপাজতে নেয় শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের দুর্নীতিদমন শাখার তদন্তকারীরা। ওই ছাত্রীর বাড়িতে যায় তদন্তকারী আধিকারিকদের একটি দল। তার নেতৃত্বে ছিলেন দুর্নীতিদমন শাখার এসিপি পূর্ণিমা শেরপা। অভিযোগকারীর বয়ান রেকর্ড করেন তাঁরা। ছাত্রীর শিক্ষা সংক্রান্ত নানা নথিও সংগ্রহ করেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তদন্তকারীরা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার দিলীপকুমার সরকার বলেন, তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে তরফে পুলিশকে সবরকমভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে শোরগোল ওঠায় আতঙ্কিত নিশা। তিনি বলেন, ঘটনা সত্য। এটা নিয়ে বাইরে যেভাবে শোরগোল চলছে, তাতে ভয় হচ্ছে। পুলিশের কর্তারা এখনই এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। শিলিগুড়ি কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফেও অমিতাভবাবুকে শোকজ করা হয়। সেই শোকজের জবাব দেন তিনি। এদিন কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে গঠিত বিভাগীয় তদন্ত কমিটির বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন তিনি।