দিল্লির বহুতল থেকে পড়ে চাঁচলের শ্রমিকের মৃত্যু

902

সামসী: দিল্লিতে কাজ করতে গিয়ে বহুতল থেকে পড়ে মৃত্যু হল চাঁচলের এক শ্রমিকের। মৃত শ্রমিকের নাম আশরাফুল হক (২৪)। তাঁর বাড়ি চাঁচল-২ ব্লকের চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের যদুপুর গ্রামে। বুধবার দুপুরে বহুতল থেকে পড়ে মারা যান তিনি। মৃত আশরাফুল দেড় মাস আগে বিয়ে করেন। বিয়ের দুই সপ্তাহ বাদেই ফের ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি।

মৃত শ্রমিকের পরিবার ও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন থেকে আশরাফুল দিল্লীতে নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দুই ভাইও দিল্লিতে রয়েছেন। লকডাউনে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাড়ি ফিরে আসেন আশরাফুল। মাত্র দেড় মাস আগে চাঁচল-১ ব্লকের খরবার কোবাইয়া গ্রামের নারগিস খাতুনের সঙ্গে মোহর হয় তাঁর। শুক্রবার আশরাফুলের মৃতদেহ গ্রামে আসবে।

- Advertisement -

আশরাফুলের বাবা হাজি মুসিরুদ্দিন ও মা খতিজা বিবি জানান, মোহরের পর ছেলে যখন দিল্লি যায় তখন বলেছিল, কয়েকমাস কাজ করেই বাড়ি ফিরে আসবে। কিন্তু তরতাজা ছেলেটা যে এভাবে চলে যাবে তা বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁরা।

চাঁচলের কংগ্রেস বিধায়ক আসিফ মেহবুবের অভিযোগ, ’চাঁচল মহকুমার বহু শ্রমিক রোজগারের জন্য ভিনরাজ্যে গিয়েছেন। একাধিক শ্রমিকের মৃত্যুও হয়েছে ভিনরাজ্যে। এলাকায় কাজ না থাকায় ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে এলাকার কর্মহীন যুবকদের।’

চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান চম্পা সরকার বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। এলাকায় ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ হচ্ছে। কিন্তু বাড়তি আয়ের জন্য অনেকেই ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। পরিবারটিকে কীভাবে সাহায্য করা যায়, তা দেখছি।’ তবে বিধায়কের অভিযোগ ঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।

চাঁচলের মহকুমাশাসক সব্যসাচী রায় এব্যাপারে বলেন, ‘মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার যাতে সবরকম সরকারি সুযোগ সুবিধে পায়, সে বিষয়টি প্রশাসনের তরফে দেখা হবে।’

মালতিপুরের বিধায়ক আলবেরুণী বলেন, ‘এলাকায় একশো দিনের কাজ নেই। কাজ না পেয়ে এলাকার অনেকেই ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন।’