স্কুল বন্ধ, একবেলা খাবারের বিনিময়ে কুমোরটুলিতে কাজ করছে এই কিশোর

121

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: দেড় বছর ধরে স্কুল বন্ধ। পড়াশোনাও কার্যত বন্ধ। আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে কিনা, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। তাই পরিবারের চাপে কুমোরটুলিতে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ নিয়েছে সুভাষগঞ্জ হাইস্কুলের দশম শ্রেণিতে পাঠরত রাহুল পাল। বাবা ভাঙা জিনিসপত্র পাড়ায় পাড়ায় ফেরি করে কেনেন এবং মা ফুলের টব তৈরি করে সারাদিন যে আয় করেন তা দিয়ে কোনওমতে দু’বেলা নুন-ভাতের জোগাড়টা হয় তাদের। তবে লকডাউনে দু’বেলা দুমুঠো ভাতের জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

পড়াশোনা বন্ধ থাকায় পরিবারের বাবা-মায়ের কষ্টের কথা ভেবে রায়গঞ্জে কুমোরটুলিতে মূর্তি গড়ার কাজে যোগ দিয়েছে রাহুল। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিল্পী নারায়ণ পালের কারখানায় মাটি মাখানো, কাঠামো তৈরি, সাঁচের গহনা তৈরি সহ বিভিন্ন রকম কাজ করতে হয় তাকে। ভবিষ্যতে একজন প্রতিমাশিল্পী হয়ে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোঁটাতেই এই কাজ বেছে নিয়েছে সে। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘণ্টাখানেক পড়াশোনার পর চা-মুড়ি খেয়ে কাঞ্চনপল্লির উদ্দ্যেশ্যে রওনা হয় সে। এরপর মালিকের হুকুম মতো সারাদিন একের পর এক কাজ করতে হয়। কাজের ফাঁকে পড়াশোনা করার সুযোগ মেলে না, তাই রাতে বাড়ি পৌঁছে দুই এবার চোখ বুলিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হয় রাহুলকে। মাসখানেক হল কাজে যোগ দিয়েছে সে। কাজে যেহেতু একেবারে নবীন তাই কোনও পারিশ্রমিক মেলে না। তবে দুপুরের খাবারটা দেন কারখানার মালিক নারায়ণ পাল। কাজ শেখার পর পারিশ্রমিক মিলবে, এই শর্তেই রাহুলকে নিয়েছেন তিনি। পড়াশোনা আর হবে কিনা, তার জানা নেই। ভবিষ্যতে একজন প্রতিমাশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে রাহুল।

- Advertisement -

কারখানার মালিক নারায়ণ পাল জানান, এখন তো কাজ শিখছে। তাই হাতে কোনো টাকা পয়সা দিই না। তবে দুপুরের খাবারটা এখানেই খায়। কাজ শিখলে কিছু দেব।

রাহুলের মতো আরও অনেকেই স্কুল বন্ধ থাকায় কুমোরটুলিতে কাজে যোগ দিয়েছে। স্কুল খুললে আবার তারা স্কুলমুখী হবে কিনা, ওরা কেউই জানে না। পরিবারের কথা ভেবে দিনরাত কাদামাটির মধ্যে ডুবে থাকতে হচ্ছে ওদের।