আদিবাসী মহিলাকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ

482

গাজোল: এক আদিবাসী মহিলাকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গাজোল ব্লক লাগোয়া উত্তর দিনাজপুর জেলার জয়হাট গ্রাম পঞ্চায়েতের শাসন গ্রামে। মৃতার পরিবারের দাবি, একদিকে জমিজমা সংক্রান্ত গন্ডগোল, অপরদিকে ডাইনি সন্দেহ, এই দুইয়ের জেরে সম্ভবত তাঁকে খুন করা হয়েছে। মৃতার নাম লেগো মুর্মু (৪৫)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে ওই মহিলার ভাইপো বাড়িতে এসে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বারবার আঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই মহিলাকে গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু অত্যধিক রক্তক্ষরণের জেরে রাস্তাতেই মারা যান লেগো মুর্মু। হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃতার ভাই সুফল মুর্মু এবং ভাগ্নে মঙ্গল মুর্মু জানান, উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার থানা এলাকার শাসন গ্রামে বসবাস করেন সরকার হেমব্রম এবং তাঁর স্ত্রী লেগো মুর্মু। তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে। একই গ্রামে বাস করেন সরকার হেমব্রমের ভাইয়ের ছেলে পানু মুর্মু। তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েক বছর ধরে জমি জায়গা নিয়ে গন্ডগোল চলছিল সরকার হেমব্রমের। এছাড়াও বছর দুয়েক আগে পানু মুর্মু বিয়ে করেন। কিন্তু এতদিন পরেও তাঁদের কোনও সন্তান না হওয়ায় ওঝা-গুনিনের কাছে যাতায়াত শুরু করেন পানু। এরপর থেকেই তিনি প্রচার করে বেড়াতেন তাঁর জেঠিমা ডাইনি। সেজন্যই তাঁর কোনও সন্তান হচ্ছে না।

- Advertisement -

জমি জায়গার বিষয়টি নিয়ে বছর খানেক আগে গ্রামে একবার সালিশি সভা বসেছিল। কিন্তু সেই সভার সিদ্ধান্ত নাকি মানতে চাননি পানু। এরপর থেকে দুই পরিবারের মধ্যে তেমন সদ্ভাব ছিল না। শনিবার রাতে পানু সরকার হেমব্রমের বাড়িতে আসেন। সরকার দরজা খুলে তাঁকে ভেতরে ডাকেন। ঘরের বাইরে সন্তানদের নিয়ে লেগো মুর্মু ঘুমিয়ে ছিলেন। অভিযোগ, সেসময় লেগোর উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন পানু। তাঁকে চাকু দিয়ে কুপিয়ে পানু সেখান থেকে পালিয়ে যান। বাড়ির ভেতরে এসে এই দৃশ্য দেখে হকচকিয়ে যান সরকার হেমব্রম। তাঁর চিৎকার চেঁচামেচি শুনে পাড়ার লোকজন ছুটে আসেন। ফোন করে ডাকা হয় অ্যাম্বুল্যান্স। তড়িঘড়ি লেগো মুর্মুকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন স্থানীয়রা। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে রাস্তাতেই মারা যান লোগো। গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়ে হাসপাতালে আসে গাজোল থানার পুলিশ। রবিবার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। এদিন সকালে ইটাহার থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন পানু।

গাজোল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক হারাধন দেব জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম লেগো মুর্মুকে শনিবার রাতে চিকিৎসার জন্য গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আত্মীয়রা জানিয়েছেন, মৃতার ভাইপো ধারালো অস্ত্র দিয়ে লেগো মুর্মুকে আঘাত করেছেন। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ভাইপোকে ইটাহার থানার পুলিশ আটক করেছে। কী কারণে খুন করা হয়েছে, তার তদন্ত চলছে। রবিবার মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।