করোনায় আক্রান্ত টোল প্লাজার কর্মী

563

গাজোল: এবার করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ল গাজোল টোল প্লাজার এক কর্মীর শরীরে। জানা গিয়েছে, ওই কর্মীকে চিকিৎসার জন্য কলকাতা পাঠানো হচ্ছে। তবে টোল প্লাজার কর্মীর মধ্যে যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে তার খবর বিকেল পর্যন্ত এসে পৌঁছায়নি টোল প্লাজা কর্তৃপক্ষের কাছে।

টোল প্লাজা কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তারা সমস্ত জায়গায় যোগাযোগ করছে। তবে এখনও পর্যন্ত সঠিক কোনও তথ্য তাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। রিপোর্ট না আসলেও ওই কর্মীর সঙ্গে যাঁরা কাজ করতেন তাঁদের হোম কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়েছে। যদিও তাঁদের এক সহকর্মী করোনা আক্রান্ত, এই খবরে যথেষ্ট আতঙ্ক এবং চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে অন্য কর্মীদের মধ্যে।

- Advertisement -

ব্লক প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক তথ্য আসার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য টোল প্লাজা কর্তৃপক্ষকে আবেদন জানানো হবে। করোনা রুখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বলা হবে।

শুক্রবার রাতে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্টে দেখা যায়, করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে গাজোল টোল প্লাজার এক কর্মীর শরীরে। যদিও সেই কর্মীর বাড়ি ইংরেজবাজারের ২ নম্বর গভঃ কলোনি এলাকায়। টোল প্লাজার ভেতরে কন্ট্রোল রুমে কাজ করতেন তিনি।

গাজোল টোল প্লাজার প্রজেক্ট ম্যানেজার মনোজ তিওয়ারি জানিয়েছেন, তাঁদের ওই কর্মী গত ২৫-২৬ জুন ডিউটি করার পর ছুটি নিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রীর শারীরিক অসুস্থতার জন্য ছুটিতে ছিলেন তিনি। তারপর থেকে তিনি আর ডিউটিতে আসেননি। পরে জানা যায়, তিনি অসুস্থ হয়েছেন। এদিন জানা যায়, চিকিৎসার জন্য ওই কর্মীকে কলকাতা পাঠানো হচ্ছে। তাঁদের কর্মীদের মেডিক্লেম করা আছে। সত্যিই ওই কর্মীর শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে কিনা, তা জানার জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সে সম্পর্কে কোনও তথ্য তাঁদের কাছে আসেনি। তবে ওই কর্মীর সঙ্গে কন্ট্রোল রুমে যাঁরা ডিউটিতে ছিলেন তাঁদের প্রত্যেককেই হোম কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়েছে।

মনোজবাবু বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার সময় থেকেই তাঁদের দপ্তরে প্রতিটি নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে। কাজে যোগ দেওয়ার আগে প্রত্যেক কর্মীরই থার্মাল স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রী হলেই তাঁকে বাড়িতে থাকতে বলা হচ্ছে। এরপর চিকিৎসা করিয়ে ডিউটিতে যোগদান করার কথা বলা হচ্ছে। এছাড়াও প্রত্যেকটি কর্মীকে এক ঘণ্টা পর পর হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। গোটা এলাকা চার ঘণ্টা পরপর স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে সবরকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।’

তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি ব্লক সভাপতি অরবিন্দ ঘোষ বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত ওই কর্মীর চিকিৎসা যাতে ভালোভাবে হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানাবো আমরা। এছাড়াও ওই কর্মীর সঙ্গে যাঁরা কাজ করতেন তাঁদের প্রত্যেককে হোম কোয়ারান্টিনে পাঠানোর পাশাপাশি প্রতিটি কর্মীর লালার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার দাবিও আমরা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে ওই কর্মীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা টোল প্লাজা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।’

বিডিও উষ্ণতা মোক্তান বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনও সেই রকম কোনও রিপোর্ট এসে পৌঁছায়নি। রিপোর্ট আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।টোল প্লাজার অন্য কর্মীদের মধ্যে যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে টোল প্লাজা কর্তৃপক্ষকে।’