রতুয়ায় ভাঙনের একবছর পরেও সাহায্য মেলেনি

399

শেখ পান্না, রতুয়া : গতবছরের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনও তাড়া করছে। এখনও ভাঙা বাড়ি তৈরি করতে মেলেনি সরকারি কোনও সাহায্য। তার মধ্যে উত্তরবঙ্গজুড়ে শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টিপাত। আবারও ফুঁসতে শুরু করেছে রতুয়ার ফুলহর সহ পাশ্ববর্তী নদীর জল। সংস্কারের অভাবে সূর্যাপুরের ভাঙা বাঁধ দিয়ে নদীর জল ঢুকতে শুরু করেছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। জরুরি অবস্থায় বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণের নামে টাকা লুট হচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এই অবস্থায় আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রতুয়া-১ ব্লকের সূর্যাপুর এলাকায় ফুলহর নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছিল মহানন্দাটোলা, বিলাইমারি, কাহালা, দেবীপুর, রতুয়া ও বাহারাল গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা। ক্ষতি হয়েছিল প্রায় কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল সহ অসংখ্য ঘরবাড়ি। সেইসময় সমস্ত রকমের সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছিল প্রশাসনের তরফে। এই বছরও এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করেছে। এবারও ফুলহর নদীর জলে বানভাসি হওয়ার আশঙ্কায় কয়েক হাজার পরিবার।

গ্রামের এক বাসিন্দা দীপালি ঘোষ জানান, গতবারের বন্যায় আমার ঘর ভেঙে গিয়েছিল। বাঁধের ওপর আশ্রয় নিতে হয়েছিল । ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে খোলা আকাশের নীচে ছিলাম বেশ কয়েকমাস। কোনও সরকারি সহযোগিতা মেলেনি। এলাকা থেকে জল সরে যাওয়ার পর বাঁশের চাটাইয়ের ঘরে কোনওরকমে দিন গুজরান করছি। আমাদের আর্জি, সরকারের তরফে যেন আমাদের একটা পাকা বাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। আরেক গ্রামবাসী ভারতী ঘোষ বলেন, গতবারের বন্যায় ঘরবাড়ি পড়ে গিয়েছিল। সরকারি কোনও সহযোগিতা মেলেনি। আবার এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করেছে। কীভাবে থাকব, সেই চিন্তায় রাতের ঘুম হারিয়েছে। বন্যার জলে আবারও ভাসতে হবে। ব্লক ও পঞ্চায়েত দপ্তরে জানিয়ে কোনও সরকারি সাহায্য পাচ্ছি না। এভাবে চলতে থাকলে মৃত্যু অবধারিত।

- Advertisement -

সূর্যাপুর এলাকার অমিত মণ্ডল বলেন, অস্থায়ী নদীবাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু শুধু বালির বস্তা দিয়ে নদীর জল আটকানো সম্ভব নয়। বাঁধের ফাটা অংশ দিয়ে এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করেছে। যা অবস্থা  গত বছরের মতো আবারও আমাদের ভাসতে হবে নদীর জলে। সেই সময় এলাকায় খোঁজখবর নিতে এসেছিলেন স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রতিনিধি থেকে শুরু করে রাজ্যের দুই মন্ত্রী গোলাম রাব্বানি ও জাভেদ খান। তাঁরা ঘরবাড়ি তৈরির আশ্বাস দিয়েছিলেন। তাঁদের পরামর্শ মেনে আমরা ব্লক অফিসে ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা জমা দিই। কিন্তু এক বছর পরেও এখনও বাড়ি তৈরির জন্য কোনও টাকাপয়সা পাওয়া যায়নি। তবে বিডিও সারওয়ার আলি জানান, আমরা গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির তালিকা তৈরি করেছি। সেই তালিকা জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ওই তালিকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ হয়নি। অর্থ বরাদ্দ হলেই বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে।