এনআরসি আতঙ্কে ফুটপাতে রাত জাগছে মালদা

596

জসিমুদ্দিন আহম্মদ, মালদা : কারও র‌্যাশন কার্ডে নামের বানান ভুল, কারও আবার ঠিকানায় গলদ। আধার কার্ডেরও এক হাল। তবে এসব ভুল নিয়ে এতদিন তেমন মাথা ঘামাত না আমআদমি। কিন্তু এখন এনআরসি আতঙ্ক তাড়া করছে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে। তাই নথিপত্র ঠিক করাতে দিনরাত এক করছে সাধারণ মানুষ। এনআরসি আতঙ্ক এতটাই গ্রাস করেছে যে আধারকার্ড ও র‌্যাশন কার্ড সংশোধনের জন্য পোস্ট অফিস বা ব্যাংকের সামনে সারারাত লাইন দিয়ে থাকছেন অনেকে, যাতে সকালে অফিস খুললেই কার্ড সংশোধন করিয়ে নেওযা যায়। এজন্য ফুটপাতে জেগেই রাত কাটাচ্ছেন মালদা শহরের বাসিন্দারা।

আধার সংশোধন করতে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধে পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন ব্যাংক ও হেড পোস্ট অফিসের সামনে ভিড় করছে সাধারণ মানুষ। কারোর আধার কার্ডে নামের ভুল, কারোর আবার বয়স ভুল রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে প্রতিটি সংশোধন কেন্দ্রে দিনে সীমিত সংখ্যার কার্ড সংশোধন করা হচ্ছে। প্রতিদিন ২০ জনের আধারকার্ড সংশোধন করা হয়। অথচ সংশোধনের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা শতাধিক। ফলে একদিনে কাজ হওয়া সম্ভব নয়। যাদের বাড়ি কাছে, তারা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। বহু দূরদূরান্তের মানুষ সংশোধনকেন্দ্রগুলির বাইরে রাতেও লাইন দিয়ে বসে থাকছেন।রতুযার বাহারালের বাসিন্দা এমাজুদ্দিন খান বুধবার রাতে ইউকো ব্যাংকের বন্ধ গেটের সামনেই শুয়েছিলেন। তিনি জানান, শুনছি এরাজ্যেও এনআরসি চালু করা হবে। কাগজপত্র ঠিক রাখতেই আমার আধার কার্ড সংশোধন করতে এসেছি। আধার কার্ডে আমার বয়স ভুল রয়েছে। সকাল বেলা এলেও এই ব্যাংকে লম্বা লাইন তৈরি হয়। বেশ কয়েকদিন ধরেই লাইন দিচ্ছি, কিন্তু আমার নম্বর আসার আগেই সংশোধনের কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই ঠিক করেছি আধারকার্ড ঠিক না করে বাড়ি ফিরব না। ব্যাংকের সামনেই শুয়ে রাত কাটাচ্ছি। চাঁচলের বাসিন্দা সঞ্জীব সাহা জানান, তিনি দুদিন ধরে ব্যাংকের সামনে হত্যে দিয়ে রয়েছেন। তার নামের বানান ভুল রয়েে আধারকার্ডে। কিন্তু দীর্ঘ লাইনের ফলে আধারকার্ডের সংশোধন এখনও হয়নি। মালদার প্রধান ডাক ঘরের সামনে রাত কাটাচ্ছিলেন পরানপুরের যুবক নিয়ামত আলি। তিনি জানান, পোস্ট অফিসে আধার সংশোধন করাতে এসে ৬ দিন ধরে ঘুরছেন। কারণ পোস্ট অফিস খোলার সঙ্গে সঙ্গেই শতাধিক মানুষের লাইন পড়ছে। দিনে ২০টি করে আধার সংশোধন হচ্ছে। ফলে এত দূর থেকে এসেও আমার কাজ হচ্ছে না। তাই ঠিক করেছি রাত পোস্ট অফিসের বাইরেই কাটাবো।

- Advertisement -

মালদা ডাক বিভাগের অধিক্ষক অমলকৃষ্ণ ঘোষ জানান, আধার সংশোধনের হিড়িক দেখে মালদা ডাক বিভাগের জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পোস্ট অফিসগুলিতেও আধার সংশোধনের কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই মালদা হেড পোস্ট অফিস ছাড়াও আধার সংশোধন হচ্ছে শহরের মকদুমপুর, সুজাপুর, কালিয়াচক, মানিকচক, শোভানগর, গাজোল, সামসী, পাকুয়াহাট পোস্ট অফিসে। তবে আধার সংশোধনের জন্য ডাক বিভাগের কাজে খানিকটা প্রভাব পড়ছে। কারণ, গ্রামীণ পোস্ট অফিসেগুলিতে পর্যাপ্ত কর্মী নেই। কোনও কোনও পোস্ট অফিসে মাত্র দুজন কর্মী রয়েছেন। সেখানেও আধার সংশোধন হচ্ছে।