শিলিগুড়ি : চার মাস আগে নির্দেশিকা এলেও এখনও শিলিগুড়ি মহকুমায় র‌্যাশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ডের লিংক করার কাজ অর্ধেকও হয়নি। অথচ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ রয়েছে। হাতে আর তিন সপ্তাহ সময় থাকায় কীভাবে এই বিশাল পরিমাণ র‌্যাশন কার্ডের সঙ্গে আধার সংযুক্তির কাজ সম্পূর্ণ করা যাবে, তা নিয়ে চিন্তিত খাদ্য দপ্তর। তারা জানিয়েছে, র‌্যাশন ডিলারদের গুরুত্ব দিয়ে এই কাজ করার জন্য বারবার বলা হচ্ছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করতে না পারলে পরবর্তীতে ভরতুকির খাদ্যসামগ্রী পেতে সমস্যা হবে। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই কাজ শেষ করতেই হবে। সেইজন্য প্রত্যেকটি জেলাকেই বাড়তি উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

শিলিগুড়ি মহকুমায় প্রায় সাড়ে আট লক্ষ র‌্যাশন গ্রাহক রয়েছেন। শিলিগুড়ি শহর এবং মহকুমার চারটি ব্লক মিলিয়ে মোট ১৪৬ জন র‌্যাশন ডিলারের মাধ্যমে ভরতুকির খাদ্যপণ্য এবং কেরোসিন তেল বিলি করা হয়। গত অগাস্ট, সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে এক নির্দেশিকা পাঠিয়ে র‌্যাশন কার্ডের সঙ্গে আধার নম্বর সংযুক্ত করার নির্দেশ দেয়। সেইমতো রাজ্য সরকার সেপ্টেম্বর মাসেই প্রত্যেক জেলায় এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে কাজ শুরু করতে বলে। খাদ্য দপ্তরের এক শীর্ষস্থানীয় আমলা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত সরকারি সুযোগসুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রেই আধার কার্ডকে বাধ্যতামূলক করছে। র‌্যাশন ব্যবস্থাতেও সেটাই হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বেরর মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করতে বলা হয়েছে। তা না করলে আগামীতে খাদ্যপণ্য বরাদ্দ করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার অন্য পদক্ষেপ নিতে পারে। মানুষের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেইজন্যই এই কাজে জোর দেওয়া হয়েছে।

শিলিগুড়ির খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনো ডিলারের কাছে ২৫ শতাংশ, কোনো ডিলারের কাছে ৩০-৩৫ শতাংশ কার্ড আধার লিংক করা হয়েছে। কিন্তু তিনমাস পেরিয়ে গেলেও কেন এই কাজ এগোয়নি, সেই প্রশ্ন উঠছে। একাধিক র‌্যাশন ডিলার জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ র‌্যাশন নিতে এলে তাঁদের র‌্যাশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড নিয়ে দোকানে এসে লিংক করার জন্য বলা হচ্ছে। কিন্তু সিংহভাগ মানুষই তাতে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। সামান্য কিছু গ্রাহক সময়মতো এসে কার্ড লিংক করাচ্ছেন।  মানুষ না এলে তো ডিলারদের কিছু করার নেই। প্রশাসনের আধিকারিকরা বলছেন, খাদ্যসাথীর কার্ড করানোর সময় এনআরসির আতঙ্কে মানুষ লাইন দিয়েছেন। কিন্তু তার এক মাসের মধ্যে র‌্যাশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ডের লিঙ্ক করানোর ব্যাপারে তাঁদের কোনো গরজ নেই। আগামী দিনে এ জন্য যে তাঁদের  র‌্যাশন বন্ধ হয়ে যেতে পারে, একথা বারবার বুঝিয়ে বিশেষ কাজ হচ্ছে না। জানুয়ারি মাসের পরই এ নিয়ে সমস্যা বোঝা য়াবে।

শিলিগুড়ির মহকুমা খাদ্য সরবরাহ আধিকারিক প্রেমডিকি ভুটিয়া বলেন, এটা ঠিকই যে অনেকদিন হয়ে গেলেও এখনও র‌্যাশন কার্ডের সঙ্গে আধার লিংকের কাজ শেষ হয়নি। আমরা ডিলারদের এ ব্যাপারে আরও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার কথা বলেছি। নির্দেশমতো এই মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।