সুচন্দন কর্মকার, কালিয়াগঞ্জ : পুকুরপাড় থেকে আবাসন, এমনকি শৌচালয়ে পাশেও পড়ে রয়েছে সবুজ সাথীর সাইকেল। সবুজ সাথীর সাইকেলে কালিয়াগঞ্জ বিডিও অফিস ক্যাম্পাস কার্যত উপচে পড়েছে। এক-দুশো নয়, হাজারের বেশি সাইকেল রাখা আছে খোলা আকাশের নীচে। প্রতিদিন বাড়ছে এই সাইকেলের সংখ্যা। কারণ বিডিও অফিসে চলছে নতুন সাইকেল ফিটিংসের কাজ।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ে চালু করা সবুজ সাথী প্রকল্পে সরকারি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের দেওয়ার জন্য এই সাইকেলগুলি এসেছিল। প্রতি বছর এই প্রকল্পে সাইকেল দেওয়া হচ্ছে। এবারে তালিকাভুক্ত কয়েক হাজার পড়ুয়ার জন্য সাইকেলগুলি এসেছে। রাজ্য সরকারের বরাতপ্রাপ্ত সংস্থা এই সাইকেল পৌঁছে দেয় ব্লক অফিসে। তারপর স্কুল বা ব্লক অফিস থেকে সেই সাইকেল তুলে দেওয়া হয় পড়ুয়াদের হাতে। এবারেও তেমনই পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাদ সেধেছে ভোটবিধি। কালিয়াগঞ্জে বিধানসভার উপনির্বাচন হবে ২৫ নভেম্বর। গত ২৫ অক্টোবর কালিয়াগঞ্জের ভোট ঘোষণার সঙ্গে লাগু হয়েছে নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি। ফলে সাইকেল বিলির প্রক্রিয়া এখন বন্ধ রয়েছে।

- Advertisement -

২৮ নভেম্বর ভোটের ফল প্রকাশের পর আচরণবিধি উঠে যাবে। তারপরেই হয়তো সাইকেল বিলি করা হবে। ফলে এখন সাইকেলের পাহাড় জমছে কালিয়াগঞ্জে। হাজার হাজার সাইকেল নিয়ে এখন সমস্যায় পড়েছে প্রসাসন। সূত্রের খবর, সবুজ সাথী সাইকেল বিলি  নির্বাচনবিধি ভঙ্গের মধ্যে আসছে না। এই উপভোক্তা তালিকা যেহেতু আগের, তাই সাইকেল বিলি করা যেত বলে মনে করে প্রশাসনের একাংশ। আবার একাংশ মনে করছে, ভোটবিধির মধ্যে এভাবে সাইকেল দিতে গেলে রাজনৈতিক অশান্তি নিশ্চিত। দ্বিতীয় এই কারণের জন্য কালিয়াগঞ্জ ব্লক প্রশাসন ভোটের মধ্যে সাইকেল বিলির পথে হাঁটেনি।

এ প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য নেতা অমিত সাহা জানান, ছাত্রছাত্রীদের বিষয় নিয়ে রাজনীতি চাই না। ২৫ তারিখের পর সাইকেল বিলি হলে কারও সমস্যা হবে না। অন্যদিকে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক অসীম ঘোষের বক্তব্য, সাইকেল বিলি করতে গেলে বিজেপি অশান্তি করবে, এটা জানা কথা। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে কালিয়াগঞ্জের বিডিও প্রসূনকুমার ধারা কোনো মন্তব্য করতে চাননি। ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি সুজিত দত্ত বলেন, বিধিনিষেধ না থাকলে সাইকেল বিলিতে আপত্তি নেই।