কৃষি প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিত্যক্ত আবাসন যেন ভূত বাংলো

প্রকাশ মিশ্র, মালদা : মালদা শহরের বুকে মকদুমপুর কৃষি ফার্মের মধ্যে পড়ে রয়েছে জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ দপ্তরের অধীনে থাকা সারি সারি পরিত্যক্ত আবাসন। যেন ভূতুড়ে বাংলো। পড়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণের অব্যবহৃত জমি। পরিত্যক্ত আবাসনে বাড়ছে বিষাক্ত সাপের উপদ্রব। অভিযোগ উঠেছে, সন্ধ্যা হলেই ওই পরিত্যক্ত আবাসনগুলিতে দুষ্কৃতী আনাগোনা বাড়ছে। ফলে অসামাজিক কার্যকলাপ দিন দিন বাড়ছে। যদিও হুঁশ নেই প্রশাসনের।

ইংরেজবাজার শহরে জমির দাম আকাশছোঁয়া। কলকাতার পরেই মালদায় নাকি জমির মূল্য সর্বাধিক। আর খোদ শহরের বুকে এই রকম জমি হলে তা যেন গরম ভাতে ঘিয়ের সুবাস। আর ওই জমি যদি সরকারি হয়, তা হলে তো কথাই নেই। অথচ সরকারি অবহেলায় শহরের বুকে একরের পর একর জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এছাড়াও পড়ে রয়েছে সারি সারি পরিত্যক্ত বাংলো। যা এখন ভূত বাংলো বলে জানেন স্থানীয় মানুষজন। এলাকার মানুষের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই জঙ্গলের নিকষ অন্ধকারে চলে অসামাজিক কার্যকলাপ। বাড়ছে সাপ, শেয়াল সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপদ্রব। যদিও জেলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আধিকারিক সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেননি যে এই কোয়ার্টারগুলি ঠিক কী কাজে লাগানো হবে। কেনই বা পড়ে রয়েছে। জেলা শাসক রাজর্ষি মিত্র বলেন, পরিত্যক্ত কোয়ার্টারগুলি এবং জমি ঠিক কাদের অধীনে রয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

- Advertisement -

একসময় কৃষি দপ্তরের কাজকর্ম রমরমা ছিল। শহরের কৃষি ফার্ম এলাকাকে ঘিরে শতাধিক কোয়ার্টার ছিল। কৃষকস্বার্থে নানা কর্মকাণ্ড চলত। এখন সে সব অতীত। একটি বিশাল অংশের এখন দায়িত্বে রয়েছে লখনউ-এর অধীনে থাকা সাব ট্রপিক্যাল হটিকালচার গবেষণা কেন্দ্র। অন্যদিকে, জেলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এখন কৃষি প্রশিক্ষণ সেভাবে হয় না। ফলে এখানে কর্মীর সংখ্যাও ঠেকেছে তলানিতে। কোয়ার্টারগুলি চলে গিয়েছে দুষ্কৃতীদের কবলে। প্রায় ৩০-৪০টি কোয়ার্টারের জানলা দরজা খুলে নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। শোনা যায় ওই পরিত্যক্ত ঘরগুলিতে চলে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ। এখনও আশেপাশে কয়টি পরিবার রয়েছে। সেগুলিতে কর্মীরা থাকেন। তবে তাঁরা খুব নিরাপদ বোধ করেন না। কেন না চারিদিকে শুনসান। চারিদিকে জঙ্গল আর জঙ্গল।

কৃষি ফার্মের একদিকে রয়েছে ইংরেজবাজার ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের অফিস। রয়েছে বিশাল মাঠ। অন্যদিকে ইংরেজবাজার পুরসভার একটি ক্যাম্পাস তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি ইংরেজবাজার পুরসভার উদ্যোগে এবং জেলা পরিকল্পনা দপ্তরের উদ্যোগে বিএডিপি প্রকল্পে কংক্রিট রাস্তার কাজ হয়েছে। অদূরে জায়গা রাখা হয়েছে নিজশ্রী প্রকল্পের আবাসনের জন্য। কিন্তু সেই প্রকল্পের কাজ এখনও শুরু হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু মণ্ডল জানান, সকালে বিকেলে আমাদের এখানে আসতে হয়। কিন্তু সন্ধ্যার পর আসা যায় না। সরকার এই বিশাল পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে অনেক কিছু করতে পারত। শহরের একেবারে মাঝখানে হাসপাতাল। কিন্তু তার ক্যাম্পাসগুলিকে এই সমস্ত এলাকায় ছড়িয়ে দিলে খোলামেলা জায়গা থাকার কারণে অনেক ভালো হত। জেলায় এখনও যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবামূলক দপ্তরের পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি সেগুলি গড়ে তোলার জন্য এই সমস্ত জায়গা কাজে লাগালে উপকার হত।

বাবলু জানান, কোয়ার্টারগুলি বছরের পর বছর পড়ে রয়েছে। দুষ্কৃতীরা সব খুলে খুলে নিয়ে যাচ্ছে। বটগাছ সহ বিভিন্ন আগাছায় ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। সাপ সহ জন্তু-জানোয়ারের উপদ্রব দেখতে পাচ্ছি। ফলে আশেপাশে যে দুএকটি পরিবার বাস করছেন তাঁরাও আতঙ্কিত। এই অবস্থায় আমরা চাই এলাকার উন্নয়ন হোক এবং পরিত্যক্ত কোয়ার্টারগুলি ভেঙে প্রয়োজনভিত্তিতে নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হোক। জানা গিয়েছে, এই এলাকাটি রয়েছে জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধীনে। এই কেন্দ্রের ডেপুটি ডিরেক্টর ট্রেনিং বিপদতারণ সরকার বলেন, আমি এই জেলায় নতুন এসেছি। পরিত্যক্ত কোয়ার্টার পড়ে থাকার বিষয়টি জানি। প্রচুর অব্যবহৃত জমি পড়ে রয়েছে। এই কোয়ার্টার এবং জমিগুলিকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় তার ভাবনাচিন্তা চলছে।