পুরসভার পরিত্যক্ত আবাসন এখন নেশার ঠেক

320

রায়গঞ্জ  : রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাফাইকর্মীদের জন্য কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে আবাসন বানিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু সেখানে একজনও সাফাইকর্মী আসেননি। দুই বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে সেই আবাসন। আর এর সুযোগ নিয়েছে সমাজবিরোধীরা। স্থানীয় কাউন্সিলার সেই কথা স্বীকারও করে নিচ্ছেন। সাফাইকর্মীরা আবাসনে না আসায় নিজেদের ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রশাসন এক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেবে, তার কোনও উত্তর নেই কারও কাছে। সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্যে আতঙ্কিত এলাকাবাসীরাই বা কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। রায়গঞ্জ পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তপন দাস বলেন, যাঁদের জন্য এই ঘরগুলি তৈরি করা হয়েছিল, তাঁরা আসছেন না। আমরা তাঁদের আনতে ব্যর্থ হয়েছি। আর এই সুযোগ নিয়েছে সমাজবিরোধীরা। আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় রয়েছি।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাফাইকর্মীদের জন্য রায়গঞ্জ পুরসভা বছর দুয়েক আগে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা খরচ করে নয়টি আবাসন তৈরি করেছিল। কিন্তু যাঁদের জন্য এই আবাসন করা হয়েছিল তাঁরা কেউই আসেননি। পড়ে থাকা এই আবাসনগুলিতে এখন রাতদিন নেশার আসর বসে। কুলিক নদীর বাঁধের পূর্ব দিকে উত্তর শ্যামাপল্লির তপন কলোনি এলাকায় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত সাফাইকর্মীদের জন্য রায়গঞ্জ পুরসভা বাঁশ ও টিন দিয়ে নয়টি আবাসন তৈরি করে। বিদ্যুৎ সংযোগের যাবতীয় ব্যবস্থাও করা হয় সেখানে। কিন্তু দুই বছর ধরে সেগুলি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একজনও সাফাইকর্মী সেখানে আসেননি। পড়ে থাকতে থাকতে অধিকাংশ ঘরের বাঁশ ও টিন চুরি হয়ে গিয়েছে। সকাল হলেই শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু যুবক এখানে ভিড় করে। রাতদিন চলে নেশার ঠেক। নেশার সামগ্রী কেনার জন্য আবাসনের জানালা, দরজা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ।

- Advertisement -

পরিত্যক্ত আবাসনগুলিতে গিয়ে দেখা গেল  অনেক ঘরেই টিন ও বাঁশ উধাও। দুটি ঘরে বিভিন্ন নেশার সামগ্রী পড়ে রয়েছে । সংবাদমাধ্যমকে দেখে এলাকার কয়েকজন যুবক এগিয়ে আসেন। প্রথমে কেউ মুখ না খুললেও পরে একে একে অনেকেই বলতে শুরু করেন। স্থানীয় যুবক উজ্জ্বল পাল বলেন, ‘আবাসনগুলি যাঁদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, তাঁরা কেউ আসেননি। দুবছর ধরে এই আবাসন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবকেরা এসে এখানে নেশার ঠেক বসায়। এর আগে একবার বাধা দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় কিছুদিন বন্ধ ছিল। এখন আবার শুরু হয়েছে।’ স্কুল ছাত্র নবাব দাস বলে, ‘খুব ভয় হয়। ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারি না।’

ছবি- পরিত্যক্ত আবাসন।

তথ্য ও ছবি- দীপঙ্কর মিত্র