শিলিগুড়ি, ১২ জুলাই : কাওয়াখালির প্রস্তাবিত উপনগরীতে বেশকিছু সংস্থা বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য জমি নিয়ে গত ১০-১২ বছরে সেই জমি ব্যবহার করেনি। দু-তিনটি সংস্থা জমি ঘিরে প্রকল্পের শিলান্যাস করলেও পরে আর কাজ এগোয়নি। ২০১১ সালে রাজ্যে সরকার বদল হওয়ার পর ব্যবহার না করে ফেলে রাখা জমি ফেরত নেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নযন কর্তৃপক্ষের (এসজেডিএ) চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন বলেন, আমরাও বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছি। যে সমস্ত সংস্থা জমি নিয়ে প্রকল্প না করে ফেলে রেখেছে, তাদের জমি ফেরত নেওয়া যায় কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বোর্ডসভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। এসজেডিএ-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা শিলিগুড়ির বর্তমান বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য বলেন, অবিলম্বে কাওয়াখালিতে উপনগরী তৈরি করা, যাঁরা জমি নিয়েছেন তাঁদের প্রকল্প গড়তে বলা উচিত। আমরা তো এখানে একটা উপনগরী তৈরি করে প্রচুর কর্মসংস্থানের জন্য উদ্যোগী হয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে রাজ্যে সরকার বদলের পরে আর কিছুই হল না।

উপনগরী তৈরির জন্য ২০০৪-০৫ সালে কাওয়াখালিতে ৩০২ একর জমি অধিগ্রহণ করে এসজেডিএ। অশোক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন এসজেডিএ এখানে শিলিগুড়ির দ্বিতীয় উপনগরী তৈরির কাজ শুরু করেছিল। এই জমি নিয়ে প্রচুর আন্দোলন হলেও জমির মালিকদের বুঝিয়েসুঝিয়ে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে ২০০৭-০৮ সালে কাওয়াখালিতে একাধিক নার্সিংহোম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ অনেককে জমি দিয়েছিল এসজেডিএ। এর মধ্যে কলকাতার নামি একাধিক নার্সিংহোমও রয়েছে। এদের মধ্যে ডিসান হাসপাতাল তৈরি হলেও বাকিরা জমি ফাঁকাই রেখেছে।

আমরি কর্তৃপক্ষ ২০০৮ সালে এখানে হাসপাতাল তৈরির শিলান্যাস করেছিল। তারা এখানে দ্রুত হাসপাতাল তৈরির কথা ঘোষণাও করেছিল। কিন্তু ২০১১ সালে কলকাতার আমরি হাসপাতালে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরে তারা শিলিগুড়িতে হাসপাতাল তৈরির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এখানে যে তাঁরা হাসপাতাল করছেন না তা একাধিকবার শিলিগুড়িতে জানিয়ে গিয়েছেন আমরি কর্তারা। কিন্তু তারপরেও জমি ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেনি এসজেডিএ। ফলে বছরের পর বছর ধরে ফাঁকা পড়ে রয়েছে অধিগৃহীত জমি। এমনকি যে ভাড়া চুক্তিতে এসজেডিএ জমি দিয়েছিল, সেই ভাড়াও পাচ্ছে না তারা। ফলে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই সরকারি সংস্থা। প্রশ্ন উঠেছে, কেন এই সংস্থাগুলিকে জমিতে প্রকল্প করতে বাধ্য করা হচ্ছে না বা জমি ফেরত নেওয়া হচ্ছে না।

পশ্চিমবঙ্গ কৃষিজীবী জীবন জীবিকা রক্ষা কমিটির সভাপতি মণিমোহন বিশ্বাস বলেন, আমরা চাই দ্রুত ওই জমিতে প্রকল্প হোক। নতুবা জমি ফেরত নিয়ে সাধারণ মানুষকে বসবাসের জন্য লিজ দিক এসজেডিএ। এসজেডিএ-র চেযারম্যান বলেন, বহু সংস্থা জমি নিয়ে রেখেছে। জমির ভাড়া বাবদও আমরা কিছু পাচ্ছি না। পুরো বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি। জমি ফেরত নেওয়া হবে কিনা সেব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।