কুলিক বাঁধের পাশে পরিত্যক্ত আবাসনে নেশার ঠেক

564

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : প্রায় এক বছর  আগে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাফাইকর্মীদের জন্য রায়গঞ্জ পুরসভা আবাসন তৈরি করেছিল। কুলিক নদীর বাঁধের পাশে উত্তর শ্যামাপল্লি এলাকায় বাঁশ ও টিন দিয়ে মোট নয়টি ঘর তৈরি করা হয়। কিন্তু সেখানে কেউ এখনও পর্যন্ত বসবাস করে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত ওই ঘরগুলিতে নিয়মিত নেশার আসর বসছে। নেশার সামগ্রী কেনার জন্য বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে ঘরগুলির জানলা, দরজা। কেটে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। ঘরগুলিতে বসবাস শুরুর আগেই সেগুলি কীভাবে নেশাসক্তদের কবজায় চলে যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  রায়গঞ্জ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অরিন্দম সরকার জানিয়েছেন, ঘরগুলির কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেই কাজ শেষ হলেই আগামী ২ মাসের মধ্যে সেগুলিতে বসবাস শুরু হবে।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভবন তৈরির কাজ শুরু হওয়ায় হাসপাতালের ভিতরে থাকা সাফাইকর্মীদের পুরোনো আবাসনগুলি ফাঁকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁদের জন্য পুরসভার পক্ষ থেকে টিনের ছাউনি দেওয়া ঘর তৈরি করে দেওয়া হয় উত্তর শ্যামাপল্লি এলাকায়। কিন্তু এক বছর পার হয়ে গেলেও এখনও পরিবারগুলি নতুন জায়গায় বসবাস শুরু করেনি।

- Advertisement -

এলাকায় বাসিন্দা স্কুলপড়ুয়া রাজু দাস বলে, প্রায় এক বছর হল টিনের তৈরি ঘরগুলি পড়ে রয়েছে। আগে ফাঁকা মাঠ ছিল। সেখানে আমরা খেলতাম। কিন্তু এখন ঘর তৈরি হওয়ার জন্য আমরা খেলাধুলো করতে পারি না। ঝড়ে টিনের ছাউনিগুলি উড়ে গিয়েছে। কবে এখানে মানুষ আসবে বুঝতে পারছি না।  রোহিত দাস নামে এক ছাত্র বলে, বাইরের অনেকে এখানে ভিড় জমায়। স্থানীয় কাউন্সিলার তপন দাস বলেন, মেডিকেল কলেজের সাফাইকর্মীদের জন্য প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা দিয়ে  ঘরগুলি আমরা তৈরি করেছি। তাঁরা না আসায় পরিত্যক্ত অবস্থায় সেগুলি পড়ে রয়েছে। কাঁচা বাঁশের ফ্রেম দিয়ে টিনগুলি সেট করা হয়েছে। বাঁশের রস শুকিয়ে যাওয়াতেই টিনের স্ক্রুগুলি ঢিলেঢালা হয়ে গিয়েছে। এর ফলে কিছু টিন ঝড়ে উড়ে গিয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, যদি ওই ঘরগুলিতে নেশার আসর বসে, তাহলে বিষয়টি পুলিশে জানাব।