দুর্গা প্রতিমা তৈরি করছেন আব্দুল

710

বর্ধমান: যিনি দূর্গতি বা সংকট থেকে রক্ষা করেন তিনিই হলেন দেবী দুর্গা। এই বিশ্বাসকে আঁকড়েই হয়তো শিল্পী শেখ আব্দুল কাদের নিজের শিল্প নৈপুণ্যতাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করে চলেছেন দুর্গা মূর্তি। বর্ধমান শহরের গোদা এলাকা নিবাসী শিল্পী আব্দুল কাদের দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে তামা, পিতল ও কাঁসা গলিয়ে তৈরি করছেন দুর্গা সহ নানা হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি।

যে দুর্গা মূর্তি কিনতে প্রতিবছর শারদোৎসবের প্রাক্কালে বহু দূরদূরান্ত থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন হাজির হন তাঁর বাড়িতে। হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি কেনা নিয়েই তাঁর বাড়ি হয়ে ওঠে সম্প্রীতির মহামিলন ক্ষেত্র। বর্ধমান শহরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোদা এলাকায় বসবাস করেন শিল্পী শেখ আব্দুল কাদের ও তাঁর পরিবার। তাঁর শিল্পকর্মের খ্যাতি এখন জেলা ছাড়িয়ে গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ধর্মপ্রাণ এই মুসলিম মানুষটি কোনদিনও ধর্মের বেড়াজালে নিজেকে বেঁধে রাখেননি। তিনি বরাবরই নিজের শিল্পকর্মকেই প্রাধান্য দিয়ে গেছেন। হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি তৈরি করেই আব্দুল কাদের তাঁর জীবন জীবিকার রসদ জোগাড় করেন। এই কাজে তাঁকে সর্বতভাবে সহযোগীতা করেন তাঁর স্ত্রী ও এক পুত্র।

- Advertisement -

ধর্মপ্রান মুসলিম হয়েও হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি তৈরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আমার কর্ম। এই শিল্প কাজটা করতে আমার ভালো লাগে। এই শিল্পকর্মই আমার জীবন জীবিকা। এর থেকে হওয়া রোজগারেই আমি আমার ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে শিক্ষিত করেছি। নিজের ঘর বাড়ি তৈরি করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ধর্মের সঙ্গে কর্মকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। আল্লাকে শ্রদ্ধার আশনে রেখেই আমি আমার শিল্প কর্মকে আঁকড়ে ধরেছি। শুধু দেবী দুর্গা মুর্তি নয়। কালি, গনেশ সহ অন্য সকল হিন্দু দেবদেবীর মুর্তি ও ঘর সাজানোর জন্য আর্টের শিল্প কাজও করে থাকেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে এই বাংলা রবীন্দ্রনাথ ও নজুরুলের বাংলা। হিন্দু মুসলিমের মহামিলন ক্ষেত্র এই বাংলা। তাই তাঁর তৈরি দেবদেবীর মুর্তি পুজিত হয় হিন্দু পরিবারে।