মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে রাজ্যকে তোপ আবদুস সাত্তারের

199
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরব হলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সহ সভাপতি আবদুস সাত্তার। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের পথে ঠেলে না দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছার পরিচয় দিক বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি জানান, স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৬ পর্যন্ত মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। শুধু তাই নয় রাজ্যের বর্তমান বিদ্যালয় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রতি বছর শিক্ষক নিয়োগ হবে। এটা নিঃসন্দেহে সুখবর। তা সত্ত্বেও সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষামন্ত্রী মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিশ্চুপ কেন বলেও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিদ্যালয় শিক্ষামন্ত্রী যদি পারেন শূন্য পদে শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী নিয়োগ করতে তাহলে মাদ্রাসা শিক্ষামন্ত্রীর অনুরূপ ঘোষণা করতে অসুবিধা কোথায়? শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একই সরকারের দুই রকম নীতি কী করে হতে পারে তা মাদ্রাসা শিক্ষার সঙ্গে যাঁরা সংশ্লিষ্ট তাঁরা বুঝতে পারছেন না।

- Advertisement -

তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালের পর থেকে মাদ্রাসায় শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী নিয়োগ হয়নি। প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি পদ শূন্য। যদিও সরকারের তরফে অভিযোগ তোলা হচ্ছে বর্তমান সরকারের আমলে ওই নতুন মাদ্রাসা ও নতুন শিক্ষক পদ নাকি সৃষ্টি হয়নি। এই শূন্য পদগুলো বাস্তবে পুরোনো আমলের সৃষ্টি। তাঁর মতে নূতন আমলে ওই পদ সৃষ্টি না হলেও বহু শিক্ষক অবসর নিয়েছেন, পদ শূন্য হয়ে পড়ে রয়েছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা। ভীষণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে পঠন-পাঠন বলেই তিনি মনে করেন।’ সেই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ইংরেজি মাধ্যম মাদ্রাসায় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অধীনে যে সমস্ত নিয়োগ হয়েছে তাতেও রয়েছে স্বচ্ছতার অভাব।

তিনি আরও বলেন, ‘বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি চাইবে না। কিন্তু রাজ্য সরকারকে মনে রাখতে হবে ১৯৯৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যালয় সার্ভিস কমিশনের সূচনা হয়। সেসময় এই বিদ্যালয় কমিশন বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা দুটো ক্ষেত্রেই শিক্ষক নিয়োগ করত। একসঙ্গে থাকলে এখন নিশ্চই একসঙ্গে নিয়োগের ব্যবস্থা হত।’