ভোটে জিততে অভিষেক-পিকের পাঁচ দাওয়াই

- Advertisement -

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : নিছকই মিলেমিশে চলার বার্তা নয়, শিলিগুড়ির বৈঠক থেকে ভোটে জিততে পাঁচ স্পেশাল দাওয়াই দিয়ে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোর। দুদিন ধরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার নেতাদের নিয়ে শিলিগুড়িতে বৈঠক করেন তৃণমূলের দুই ভোটকৌশলী। সেই বৈঠক থেকেই ভোটে জেতার ছক বাতলে দেন দুজনে। সেই ছক মেনেই আপাতত পা ফেলতে হবে দলের নেতাদের। পরিকল্পনা কতটা কাজে লাগছে সেটা বুঝে কৌশল পরিবর্তন করা হতে পারে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন পিকে। তৃণমূল সূত্রে এমনটা জানা গিয়েছে। শুধু প্রচার, ভাষণ দিয়ে যে ভোটে জেতা সম্ভব নয় সেকথাও ভালোভাবে নেতাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন পিকে। ভোটে যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে যুবশক্তিকে কাজে লাগানোর দাওয়াই দিয়েছেন তিনি। প্রতিটি বুথে ন্যূনতম ৫০ জনের আলাদা টিম তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেই খবর।

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দাওয়াই হিসাবে বলা হয়েছে, বুথের ভোটার লিস্ট মিলিয়ে ঘাসফুলের নিশ্চিত ভোটার চিহ্নিত করতে হবে। যাঁরা নিশ্চিতভাবে তৃণমূলকে ভোট দেবেন না তাঁদের মধ্যে কতজন কোন দলের ভোটার সেই তালিকা তৈরি করতে হবে। যাঁরা যে কোনও দলকে ভোট দিতে পারেন, তাঁদের টার্গেট করতে হবে। সেই ভোটারদের সুবিধা-অসুবিধা, প্রয়োজন-দুর্বলতা সব জেনে ভোটারের চরিত্র বুঝে তাঁর ভোট নিশ্চিত করার জন্য যা করার সেটা করতে হবে। একেবারেই যাঁরা কট্টর বিরোধী ভোটার তাঁদের না ঘাঁটানোর পরামর্শই দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, যে ব্যক্তিকে গ্রামের লোকজন পছন্দ করেন না বা নানা কারণে কুখ্যাত তাঁকে বাড়ি-বাড়ি প্রচার বা কোনও মিছিল, মিটিংয়ে কোনও অবস্থাতেই সামনের সারিতে রাখা যাবে না। বাইরের এলাকার কোনও কর্মীকে এনে গ্রামে খবরদারি করানো যাবে না।

তৃতীয় দাওয়াই হিসাবে বলা হয়েছে, বিজেপির লোক সেজে তাদের ঘরের খবর আনতে হবে। বুথের কারা গোপনে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, কী প্ল্যান হচ্ছে সব জানতে হবে। বুথে যাঁরা সেই কাজ করবেন তাঁদের স্পেশাল ট্রেনিং দিয়ে নিতে হবে। তবে বুথে দুজনের বেশি লোককে সেই কাজে ব্যবহার করা যাবে না। টেলিফোনে সেই স্পাইদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা যাবে না। তাঁরা সুনির্দিষ্ট দলীয় নেতার কাছেই রিপোর্ট করবেন। চতুর্থত, মহিলা সংগঠনের সদস্যদের একশো শতাংশ কাজে লাগাতে হবে। কোনও পতাকা, ব্যানার নিয়ে নয়, একেবারেই গল্পের ছলে বাড়ির মহিলাদের মধ্যে নানা উদাহরণ তুলে বিজেপি সম্পর্কে আতঙ্ক বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইতিবাচক দিকগুলি বলতে হবে। কেউ বিরোধিতা করলে তার প্রতিবাদ না করে বুঝেশুনে কথা বলতে হবে। পাড়ার প্রতিটি মোড়ে বিকেলে আড্ডার আসর বসাতে হবে।

পঞ্চম দাওয়াই হিসাবে বলা হয়েছে, বুথের যে কোনও বাড়ির যে কোনও সমস্যায় সবার আগে হাজির হতে হবে। ভোটের আগে কোনও গ্রাম্য সালিশিতে এমন কোনও মতামত দেওয়া যাবে না, যাতে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রতিটি সামাজিক কাজে অংশ নিতে হবে। ইস্যু তৈরি করে দলীয় ব্যানারে এমন কিছু কাজ করতে হবে যাতে এলাকায় উদাহরণ তৈরি হয় এবং দলমতনির্বিশেষে সকলেই সেই কাজকে সমর্থন জানায়। সূত্রের খবর, পিকের টিমের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের রিপোর্টের ভিত্তিতে এই পাঁচ দাওয়াইয়ে বাইরেও মালদা, কোচবিহার, শিলিগুড়ি সহ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য বাড়তি কিছু কৌশল বাতলে দিয়েছেন তৃণমূল যুব সভাপতি। আলাদা করে এলাকার বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের করণীয় বলে দিয়েছেন।

পিকের কাছে খবর পৌঁছেছে, আইপ্যাকের নামে ফোন করে বিজেপির আইটি সেলের কর্মীরা নেতাদের কাছ থেকে দলীয় নানা তথ্য সংগ্রহ করছেন। সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে প্রত্যেককেই। সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে জেলা নেতাদের বিষয়টি জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, নেতাদের বুথভিত্তিক আইটি সেল তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন পিকে। গ্রুপ তৈরি করে বুথের ছোট, বড় প্রতিটি কাজ হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জেলা ও রাজ্যের কর্মসূচিও গ্রুপে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে নেতাদের কাছ থেকে সীমান্ত এলাকা এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছেন পিকে এবং অভিষেক। পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোটব্যাংক কীভাবে নিজেদের দিকে আনা যায় এবং স্থানীয়স্তরে আরএসএসের মোকাবিলায় কী করা যেতে পারে তা নিয়ে বিভিন্ন জেলার নেতাদের পরামর্শও লিখে নিয়েছেন তাঁরা। আরএসএস-এর তৎপরতা নিয়ে ডুয়ার্সের নেতাদের সতর্ক থাকতেও বলেছেন পিকে।

- Advertisement -