প্রায় ৩০ মিনিট পদ্ম পর্বতাসন! ইন্ডিয়ান বুক অফ রেকর্ডসে নাম উঠল অভিষিক্তার

228

আসানসোল: বয়স তখন মাত্র ৬। সেসময়ই হাতেখড়ি হয়েছিল যোগাসনে। তার ঠিক এক মাস পার হতে না হতেই জীবনের প্রথম সাফল্য পান অভিষিক্তা দাস। রাঁচিতে আয়োজিত জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান পান তিনি। এরপর আর কখনও পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। জীবনের প্রতিটি মূহুর্তে যোগাসনকে সঙ্গী করে একের পর এক প্রতিযোগিতায় সফল হয়েছেন অভিষিক্তা। প্রায় প্রতিটি যোগাসনের আসরে সফল অভিষিক্তা আজ বাংলা তথা ভারতের বুকে যোগাসনে অনবদ্য নজির সৃষ্টি করেছে। একটানা প্রায় ৩২ মিনিট পদ্মা পর্বতাসন করে নিজের নাম তুলে নিয়েছেন ইন্ডিয়ান বুক অফ রেকর্ডসে। বিএসসির প্রথম বর্ষের অভিষিক্তার ইচ্ছে অলিম্পিকে যোগাসন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ভারতের নাম উজ্জ্বল করা।

ইতিমধ্যেই ২০১৩ সালে দিল্লিতে জাতীয় স্তরের যোগাসন প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ পদক লাভ করেছেন অভিষিক্তা। ২০১৪ সালে সে গুজরাতে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় রৌপ্য পদক পান। একইভাবে ২০১৫ সালে মহারাষ্ট্রে জাতীয় প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ পদক ও ২০১৭ সালে কলকাতায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যোগাসন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান অফ চ্যাম্পিয়নের খ্যাতি লাভ করেন রানিগঞ্জের মেয়ে অভিষিক্তা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতায় অনুষ্ঠিত জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় ফের সেরার সেরা হয়ে মেগা চ্যাম্পিয়ন হন অভিষিক্তা। তবে লকডাউনের কারণে ধীরে ধীরে শ্লথ হতে চলেছে তাঁর এই জয়ের ধারা। তবুও সে থেমে থাকেননি তিনি। বাড়িতে বসেই ভার্চুয়ালি প্রায় ৮টি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সাফল্য আসে চারটি প্রতিযোগিতায়। যার মধ্যে দু’টিতে চ্যাম্পিয়ন অফ চ্যাম্পিয়ন ও দুটিতে ফার্স্ট রানার আপের খেতাব ছিনিয়ে নেন তিনি।

- Advertisement -

সবশেষে চলতি বছরের জুলাই মাসে ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডের জন্য আবেদন করেন তিনি। গত ১২ জুলাই যোগাসন প্রদর্শনীর কথা জানানো হয়েছিল তাঁকে। সেই মোতাবেক যোগাসন প্রদর্শন করেন তিনি। একটানা প্রায় ৩০ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড পদ্মা পর্বতাসন করে স্বপ্ন পূরণ করলেন তিনি। এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য কিভাবে নিজের এই সাফল্য বজায় রাখা যায়। অভিষিক্তার এহেন সাফল্যে স্বভাবতই খুশি পরিবারের সদস্য সহ আত্মীয় পরিজনরা। একইসঙ্গে রানিগঞ্জ তথা আসানসোল শিল্পাঞ্চলবাসীও অভিষিক্তার সাফল্যে আপ্লুত।