টাকার লোভে বাড়ছে গর্ভপাতের কারবার

236

খোকন সাহা, বাগডোগরা : মিনিট দশেকের অপারেশনেই আয় ৫০ হাজার। বিশেষ কোনও পরিকাঠামো বা খুব বেশি জায়গা- কোনওটাই লাগে না। মাটিগাড়া, ফাঁসিদেওয়া, নকশালবাড়ির বিভিন্ন ছোট নার্সিংহোমে এখন অবৈধ গর্ভপাতচক্রের রমরমা। টাকার লোভে এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন সরকারি ডাক্তাররাও। পার্টিকে নিয়ে বুঝিয়েসুজিয়ে নার্সিংহোমে নিয়ে আসার জন্য রয়েছে দালালচক্র। পার্টির পকেটের অবস্থা বুঝে এই অপারেশনের রেট ঘোরাফেরা করে দশ হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার মধ্যে। আবার তেমন শাঁসালো পার্টি পেলে খরচ বেড়ে যায় আরও।

সম্প্রতি এ ধরনের কাজের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে মাটিগাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক চিকিৎসকের। মাটিগাড়ার খাপরাইল মোড়ের এক নার্সিংহোমে অবৈধ গর্ভপাতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। সূত্রের খবর, মাটিগাড়া ব্লকের ফাঁসিদেওয়া মোড় সংলগ্ন একটি নার্সিংহোম, মেডিকেল মোড় সংলগ্ন একটি নার্সিংহোম, রেললাইন সংলগ্ন একটি নার্সিংহোমেও এ ধরনের কারবার চলে।

- Advertisement -

সরকারি হাসপাতালের জনৈক চিকিৎসক বলেন, গর্ভপাত করানোর পেশেন্ট পার্টি নিয়ে আসার জন্য নার্সিংহোমগুলি রীতিমতো কমিশন দেয় দালালদের। গ্রাম ও চা বাগান এলাকার কিছু আশাকর্মী, কয়েকটি চা বাগানের ফার্মাসিস্ট, স্বাস্থ্যকর্মী, ওষুধের দোকানের মালিক, কর্মচারী, হাতুড়ে চিকিৎসক, অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের সঙ্গে নার্সিংহোমগুলির গাঁটছড়া বাঁধা থাকে। অবস্থা বুঝে কেস প্রতি ৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত কমিশন পায় এজেন্টরা। দার্জিলিং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রলয় আচার্য বলেন, আমরাও এসব অবৈধ কাজকর্মের দিকে নজরদারি রাখি। খবর পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আইন মোতাবেক গর্ভধারণের ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভপাত করানো যায়। ২০ সপ্তাহের পর থেকে সাধারণ অবস্থায় গর্ভপাত অবৈধ। তবে যদি দেখা যায়, গর্ভের সন্তানের কোনও জটিল সমস্যা রয়েছে বা প্রসবের সময় অন্তঃসত্ত্বার জীবনসংশয়ের আশঙ্কা রয়েছে, সেক্ষেত্রে ২০ সপ্তাহের পরেও গর্ভপাত করানো যায়। তবে তখন আদালতের অনুমতি নিয়ে মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে তারপর অনুমতি পেলে গর্ভপাত করানো যেতে পারে। অথচ এসব নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই দিব্যি গর্ভপাত করিয়ে যাচ্ছে নার্সিংহোমগুলি। এক চিকিৎসক বলেন, গর্ভপাত করাতে সময় লাগে ১০ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট। পারিশ্রমিকের অঙ্ক ঠিক নেই। ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা অবধি মেলে। পার্টি বুঝে দর বাড়ানো-কমানো হয়।

মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, কিছু নার্সিংহোম, যেখানে ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, তারাই এসব অনৈতিক কাজ করছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। প্রশাসনের উচিত এ ধরনের অবৈধ কাজের দিকে নজরদারি বাড়ানো।