পুজোর আগে কাজ হারালেন প্রায় ৩০০ কর্মী

0
502
- Advertisement -

আসানসোল: ঠিক দুর্গাপুজোর আগেই কাজ হারালেন প্রায় ৩০০ জন অস্থায়ী কর্মী। মূলত বোনাসের দাবিতে আসানসোলের জামুরিয়ার চাঁদায় মারুতি সেলস এন্ড সার্ভিসে জামুড়িয়ার তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতার নেতৃত্বে কর্মীরা আন্দোলন করেন। অভিযোগ সেই আন্দোলনে সংস্থার একাধিক আধিকারিককে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। তাদেরকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি অশালীন আচরণ করা হয় বলে ঐ আধিকারিকরা অভিযোগ করেন। তাতে কর্মস্থলে নিরাপত্তার অভাবের কথা জানিয়ে তিন জেনারেল ম্যানেজার সহ সাত আধিকারিক শুক্রবার রাতে পদত্যাগ করেন।

জানা গিয়েছে, শনিবার সংস্থার পক্ষ থেকে সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। কর্মীরা কাজে সংস্থা বন্ধ করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

সেই নোটিশে সংস্থার ডিরেক্টর নির্মল গর্গ জানিয়েছেন, বোনাস নিয়ে অযৌক্তিক দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি কথা মাথায় রেখেই সংস্থার আওতায় থাকা আসানসোল ক্লাস্টারের সমস্ত মারুতি গাড়ি বিক্রি ও সার্ভিস অনিদিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হল।

যদিও জামুড়িয়ার তৃনমুল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি সাধন রায় বলেন, মূলত যার নেতৃত্বে এই আন্দোলন করার অভিযোগ উঠেছে, তিনি সব অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা একাধিক দাবি নিয়ে গতমাসে যে আলোচনা করেছিলাম তাতে কর্তৃপক্ষ রাজি হয়েছিলেন। তাঁরা কর্মীদের পুরনো পাওনা দেওয়ার কথা মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু বোনাস সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য আমাদের দেওয়া চিঠির ভিত্তিতে গত ১৫ অক্টোবর সংস্থার তরফে আমাকে চিঠি দিয়ে আলোচনার জন্য ডাকা হয়। সেই আলোচনায় আমরা কর্মীদের বেতনের ৫০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার কথা মানিনি। আমরা দাবি করেছিলাম ২০ শতাংশ বোনাস দিতে হবে। সেদিন রাত এগারোটা নাগাদ সংস্থার তরফে আমাদের জানায় যে তাদের দুদিন সময় দেওয়া হোক। আমরা সেই সময় দিয়ে চলে আসি। কোথাও কোনো গালিগালাজ, ধাক্কাধাক্কি বা কোন অভদ্র আচরণ আমাদের পক্ষ থেকে কারোর সঙ্গে করা হয়নি।‘

তৃণমূল কংগ্রেসের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র তেওয়ারি এদিন বলেন, ‘আমি সবটা শুনেছি। সব পক্ষের সাথে কথা বলা হবে।’

সংস্থার এক আধিকারিক সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ করোনার কথা মাথায় রেখে বলেছিলেন তাঁরা এই বছরে আর্থিক সংকট রয়েছে। তাই কর্মীদের বেতনের ৫০% আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। এটা তারা মানেননি৷ এলাকার তৃনমুল কংগ্রেসের এক নেতা ও বহিরাগত প্রচুর মানুষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই আলোচনায় বসেছিলেন। তাঁরা আধিকারিকদের একটি ছোট ঘরে আটকে রাখেন। তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়। বলা হয় খাওয়ার জল দেওয়া হবে না। দাবি করা হয়, এসি বন্ধ করতে হবে। রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল সেদিন সংস্থার মালিক বর্তমানে করোনা আক্রান্ত। তাঁর অক্সিজেন চলছে। তবু তাঁর সঙ্গে এখান থেকেই কর্তৃপক্ষের তরফে মধ্যরাত পর্যন্ত যোগাযোগ করা হয়। তারপর বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী ভাবনা চিন্তার কথা বলে রাত বারোটা নাগাদ নেতা ও তাঁর সঙ্গে আসা লোকেরা চলে যান।‘

তিনি আরও বলেন, ‘শুক্রবার তিন জেনারেল ম্যানেজার সহ সাতজন নিরাপত্তার অভাবের কথা বলে কোম্পানির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। আমরা বিষয়টি জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি, আসানসোল পুরনিগমের প্রশাসক সহ অন্যান্যদের লিখিতভাবে আমাদের সিদ্ধান্তর কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।‘

তিনি এদিন বলেন, ‘সংস্থার আসানসোল ক্লাস্টারের মধ্যে থাকা পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর, বীরভূমে ও আসানসোল সহ যেকটি মারুতি সেলস এন্ড সার্ভিস সেন্টার ও শোরুম আছে সেগুলি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে। সব জায়গায় মিলিয়ে প্রায় ৩০০ জন কর্মী কাজ করেন।‘

- Advertisement -