জলপাইগুড়িতে প্রায় ৪২ হাজার কৃষক কৃষিঋণ থেকে বঞ্চিত

373

জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ১৫০টি শাখা লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৬৩ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকার আর্থিক সংস্থান থাকা সত্ত্বেও ৪১ হাজার ৯৬০ জন কৃষক কিষান ক্রেডিট কার্ড পাচ্ছেন না। তার ফলে তাঁরা ঋণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ব্যাংকগুলি রবি এবং খরিফ মরশুমে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। শুধু তাই নয় বিভিন্ন ব্লকে কর্মরত অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর অফ অ্যাগ্রিকালচার পদের আধিকারিকদের ভুলের খেসারত কৃষকদের দিতে হচ্ছে। কারণ এই আধিকারিকরা বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে কিষান ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলির কৃষিঋণ দেওয়ার সংস্থান নেই। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে খরিফ মরশুমে জলপাইগুড়ি জেলায় ২৫ হাজার কৃষককে কিষান ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ব্যাংকগুলিকে বেঁধে দিয়েছিল। বিভিন্ন ব্লকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলির কাছে কিষান ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার জন্য ২৪ হাজার ৩৩৫ জনের নাম সুপারিশ করা হয়। ব্যাংকগুলি ১৪ হাজার ৪৩০ জনকে কিষান ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করেছে। ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার ৯৭৫ জনের আবেদন ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে।

সূত্রের খবর ধূপগুড়িতে ৬০১২, মালে ৪০৭১, মেটেলিতে ২৬১, ময়নাগুড়িতে ৩৪২৩, নাগরাকাটায় ১৪৯, রাজগঞ্জে ৫৫৬৮ এবং জলপাইগুড়ি সদরে ৪৮৫১ জনকে কিষান ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও ধূপগুড়িতে ৩৪৫০ জন, মালে ২৪৫৪ জন, মেটেলিতে ৯০ জন, ময়নাগুড়িতে ২৬৩৫ জন, নাগরাকাটায় ৮০ জন, রাজগঞ্জে ২৬১২ জন এবং জলপাইগুড়ি সদরে ৩০১০ জন কিষান ক্রেডিট কার্ড পেয়েছেন। সরকারিভাবে ২০২০-২১ আর্থিক বছরে ৫০ হাজার কৃষককে কিষান ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিষান ক্রেডিট কার্ডধারীদের জন্য ১০৮ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংক। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত মাত্র আট হাজার ৪০ জনকে কিষান ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৪৫ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। অবণ্টিত ঋণের পরিমাণ ৬৩ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা। ব্যাংকের ১৫০টি শাখা কিষান ক্রেডিট কার্ড অনুসারে ঋণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। একমাত্র জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কিষান ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ দিয়েছে। এই ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩,০২০ জন। জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক ৩,১৫৭ জন কৃষককে কিষান ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ দিয়েছে।

- Advertisement -

লিড ব্যাংক ম্যানেজার দেবজিৎ সরকার জানান, তাঁরা ঠিক করেছেন আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে জলপাইগুড়ি জেলায় ১০ হাজার ৯৭৫ জনকে কিষান ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ দেবেন। পরবর্তীতে আরও ঋণ দেওয়া হবে। দেবজিৎবাবু জানান, কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা ভুল করে বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে কৃষিঋণ দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলি কৃষিঋণ দেওয়ার আবেদনগুলি ফেরত পাঠিয়েছে। কারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকের কৃষিঋণ দেওয়ার কোনও সংস্থান নেই। তৃণমূল কিষান খেতমজদুর কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি দুলাল দেবনাথ লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে কিষান ক্রেডিট কার্ড বণ্টন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যাংকের আধিকারিকরা কৃষকদের প্রতি সহানুভতিশীল না হওয়ায় এই পরিস্থিতি হয়েছে। বরাদ্দকৃত টাকা কৃষিঋণ হিসাবে যাতে দ্রুত বণ্টন হয়, তিনি তার দাবি করেছেন। সারা ভারত কৃষকসভার নেতা জিতেন দাস বলেন, কৃষকদের আর্থিক অনটনের কারণে নাভিশ্বাস উঠেছে। সার, কীটনাশক, বীজ ও কৃষি সরঞ্জামের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা করে বরাদ্দকৃত ঋণ  বণ্টন করা জরুরি।