দিল্লি থেকে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় মৃত চাঁচলের যুবক

সামসী: আগ্রায় পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাংলার যুবক। চাঁচল-১ ব্লকের খরবা গ্রাম পঞ্চায়েতের নিচলামারি গ্রামের যুবক আলেক আলি (৩০) দিল্লিতে গাড়ি চালানোর কাজ করেন। নিজের গাড়িতে দিল্লি থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আগ্রায় একটি মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই যুবক। শুক্রবার সকালে নিচলামারিতে ঘটনার খবর পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ বছর আগে আলেক শ্রমিকের কাজে দিল্লি গিয়েছিলেন। কিছুদিন কাজ করার পর দৈনিক ভাড়ায় ছোট গাড়ি চালাতেন তিনি। আয় মোটামুটি ভালোই হত। এরপর নিজেই একটা গাড়ি কিনে নেন। কিন্তু হঠাৎ লকডাউন ঘোষণায় বন্ধ হয়ে যায় গণপরিবহন। দিল্লিতে গাড়ি না চলায় চরম সমস্যায় পড়েন তিনি। এরপর নিজের গাড়িতে দিল্লি থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের পশ্চিমবঙ্গে ভাড়ায় নিয়ে আসতেন তিনি।

- Advertisement -

নিচলামারি গ্রামের বাসিন্দা বাঁটুল শেখ বলেন, চলতি মাসের ১৩ তারিখে চাঁচল থেকে দিল্লিতে ভাড়ায় যাত্রী নিয়ে যায় দুটি গাড়ি। একটিতে আলেক আলি এবং অপর গাড়িটি তাঁর দাদা মালেক আলির। মালেক আলিরও নিজস্ব একটি ছোট গাড়ি রয়েছে। তাঁরা দুভাই দিল্লিতে একসঙ্গে থাকতেন। দিল্লিতে যাত্রীদের রেখেই দুই ভাই দুটি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খাওয়া-দাওয়া সেরে দুই ভাই দুটি গাড়ি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। আগ্রায় তাঁদের যাত্রী তোলার কথা ছিল। চাঁচল এলাকার কিছু পরিযায়ী শ্রমিক সেখান থেকে আসার কথা ছিল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, আলেকের গাড়িতে দুজন ছিলেন। অনেক দূরের যাত্রা তাই আলেক কিছুক্ষণের জন্য বন্ধু জয়নাল আবেদিনকে গাড়ি চালাতে দেন।

এদিকে উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় ঢোকার পথেই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় আলেকের গাড়ির। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আলেক। কিছুটা পেছনে ছিলেন দাদা মালেক আলি। গুরুতর আহত অবস্থায় জয়নাল আবেদিনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। কিন্তু আগ্রায় যাত্রী তোলা আর হয়নি।

পরিবার সূত্র জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে ময়নাতদন্তেপ পর আগ্রার এসএন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে রওনা হবে দেহ। শনিবার সন্ধ্যায় গ্রামে দেহ আসবে বলে অনুমান গ্রামবাসীর। মৃত আলেক আলির পরিবারে বয়স্ক মা-বাবা, স্ত্রী ও সদ‍্য হাঁটতে শেখা আড়াই বছরের কন‍্যা আরজু পারভিন রয়েছেন।

আলেকের বাবা মহম্মদ কফিলুদ্দিন পুত্র শোকে কাতর। চোখ মুছতে মুছতে তিনি জানান, জমি-জায়গা নেই।কয়েক কাঠা ভিটেবাড়ি সম্বল। কীভাবে সংসার চলবে জানি না। চাঁচল-১’এর বিডিও সমীরণ ভট্টাচার্য্য বলেন, মৃতের স্ত্রীর বিধবা ভাতার জন‍্য আবেদন করলে বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হবে। পাশাপাশি শিশুটিও যাতে সরকারি সুযোগ সুবিধে পায়, সে বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে বলে জানান বিডিও।