বেহাল ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনা-মৃত্যু অব্যাহত, হুঁশ নেই প্রশাসনের

513

রায়গঞ্জ: সংস্কারের অভাবে বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হয়েছে রায়গঞ্জ থেকে ডালখোলা পর্যন্ত ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের প্রায় ৫৫ কিলোমিটার রাস্তা। চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে পরিবহনকর্মী সকলকেই।একাধিক দুর্ঘটনার পাশাপাশি বেহাল রাস্তায় দিয়ে ঠিক সময়ে মুমূসসসসর্ষু রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানো যায় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পথেই মৃত্যু হয় রোগীর।

সম্প্রতি রায়গঞ্জের কুলিক পক্ষীনিবাস সংলগ্ন এলাকায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে মৃত্যু হয় একজনের। আহত হন ৪০ জন যাত্রী। রুপাহার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানবোঝাই ট্রাক উল্টে মৃত্যু হয় এক শ্রমিকের, আহত হন ১৫ জন। গত ১০ দিনে বেহাল জাতীয় সড়কের জন্য ছয়টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রসব বেদনা নিয়ে ভর্তি হতে এসে মৃত্যু হয়েছে আটজনের। একের পর এক মৃত্যুতে  ক্ষুব্ধ রায়গঞ্জ মহকুমার বাসিন্দারা।

- Advertisement -

আজকেও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একজন প্রসূতিকে ওই রাস্তায় দিয়ে ঠিক সময়ে হাটসপাতলে না পৌঁছানোয় পথেই মৃত্যু হয়। মৃত মহিলা ডালখোলার বাসিন্দা ছিলেন। একই রকম ভাবে ডালখোলা তিন নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ পাড়ার বাসিন্দা মহম্মদ সমউন পেশায় কাঠ মিলের ম্যানেজার সাইকেল নিয়ে যাওযার সময় লরির চাঁকায় পিষ্ট হয়ে যান।

অথচ, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের একমাত্র সংযোগকারী সড়কপথ এই ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। কিন্তু জাতীয় সড়কের বেহাল দশার কারণে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রতিদিন কয়েক হাজার পণ্যবাহী ট্রাক এবং ছোট-বড় গাড়ি চলাচল করে এই ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে। কিন্তু রায়গঞ্জ থেকে ডালখোলার পূর্ণিয়া মোড় পর্যন্ত জাতীয় সড়কের গোটা অংশের কঙ্কালসার চেহারা ফুটে উঠেছে।

এখন আবার বর্ষার মরশুম। ফলে রাস্তা সংস্কারের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরমধ্যেই দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। সমস্যায় পড়েছেন বাস এবং ট্রাক চালকেরা। গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হবার ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে ট্রাক মালিকদের। সে কারণে অনেক ট্রাক পথে নামাতে চাইছেন না।

যদিও জাতীয় সড়কের মালদা ডিভিশনের আধিকারিক ডি.কে হানসারীয়া বলেন, রুপাহার থেকে পানিশালা পর্যন্ত ফোর লেনের কাজ চলছে এবং ডালখোলা থেকে পানিশালা পর্যন্ত ফোর লেনের কাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করার চেষ্টা হচ্ছে। লকডাউন ও বর্ষা চলে আসায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বেহাল জাতীয় সড়ক হাল ফেরানোর জন্য প্যাচওয়ার্ক করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “জাতীয় সড়কের সামান্য কয়েক কিলোমিটার রাস্তাই বেহাল হয়েছে। বৃষ্টি না হলে দ্রুত হালে ফেরানোর চেষ্টা করা হবে।

জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, “জাতীয় সড়কের রাস্তায় যে সমস্ত গর্ত হয়েছে সেগুলি ভরাট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে। “জেলা পরিষদের এক কর্তা বলেন, “জাতীয় সড়ক সংস্কার না করার জন্যই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নাজেহাল হতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ কর্তাদের।”