খবরের জের, মানবী’র চিকিৎসায় সাহায্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার

188

মানিকগঞ্জ: উত্তরবঙ্গ সংবাদের খবরের জের। তেরো মাসের এক শিশু কন্যার সাহায্যের উদ্দেশে এগিয়ে এলো জলপাইগুড়ির এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গ্রীন ভ্যালি জলপাইগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন। অর্থের অভাবে মাঝপথেই চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে ওই শিশুকন্যার। ওই শিশুর উন্নত চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে সাধারণ মানুষ সহ নেতা মন্ত্রীদের দ্বারে গেলেও কোনো লাভ হয়নি মানিকগঞ্জের এক গরিব দম্পতির। শনিবার মানিকগঞ্জে শিশুটির বাড়িতে গিয়ে ওই গরিব দম্পতির হাতে নগদ অর্থ সাহায্য তুলে দেন সংস্থার সদস্যরা।

জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন মানিকগঞ্জ বাজার সংলগ্ন অধিকারি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা গোপাল অধিকারির। পেশায় রাজমিস্ত্রি কাজের শ্রমিক। তেরো মাস আগে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে তাঁর এক কন্যাসন্তান মানবী অধিকারির জন্ম হয়। জন্মের দু’দিন পর থেকে ওই শিশুর মধ্যে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে তার পরিবার। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাড়িতে নিয়ে আসার পর এক মাস অতিক্রান্ত হলেও খাওয়া দাওয়া স্বাভাবিক থাকলেও শিশুটি মলত্যাগ করত না। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন জন্মের সময় থেকে শিশুটির লিভার থেকে মলদ্বার পর্যন্ত নালিটি অকেজো হয়ে রয়েছে।

- Advertisement -

পরবর্তীতে গত বছর অক্টোবর মাসে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে অপারেশন করে পেটের ডান দিকে একটি ফুটো করে মলত্যাগের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। বর্তমানে তা দিয়েই শিশুটি মলত্যাগ করতে পারছে। পাশাপাশি চিকিৎসকের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় আরও একটি অপারেশন করে মলত্যাগের নালিটি তৈরি করে দেওয়া হবে ও যন্ত্র বসিয়ে মলত্যাগের প্রেসার তৈরি করা হবে। তবে, এরজন্য খরচ হবে প্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিবারের কাছে না থাকায় সমস্যার সম্মুখীন হয় অধিকারি দম্পতি।

গোপাল অধিকারি বলেন, ‘আমি পেশায় রাজমিস্ত্রি কাজের শ্রমিক। উপার্জন যা হয় তা সংসার খরচই শেষ হয়ে যায়। যে সামান্য টাকা পয়সা ছিল তা এখনকার চিকিৎসা করাতেই শেষ। নিজের ভাগে পৈতৃক যে জমি ছিল তাও বিক্রি করতে হয়েছে। এখন মেয়ের জীবন বাঁচাতে পরবর্তী অপারেশনের ও চিকিৎসার জন্য সবার কাছে আর্থিক সাহায্যপ্রার্থী আমি।‘

এদিন জলপাইগুড়ির স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গ্রীন ভ্যালি জলপাইগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সভাপতি প্রশান্ত সরকার, কোষাধ্যক্ষ নব কুমার বর্মন, সুব্রত দেবনাথ, শ্যামল পাল, মাধব মোহন্ত ও ববিতা সরকার শিশুটির বাড়িতে যান। তাঁরা ওই শিশুটির চিকিৎসার জন্য গরিব দম্পতির হাতে ১৫ হাজার টাকা তুলে দেন।

গ্রীন ভ্যালি জলপাইগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের প্রশান্ত সরকার বলেন, ‘মাত্র পাঁচ দিনে তাঁরা ওই টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। চিকিৎসার জন্য আগামী দিনে আরও অর্থের প্রয়োজন হলে ওই গরিব পরিবারটির পাশে তাঁরা দাঁড়াবেন।‘

শিশু কন্যার চিকিৎসার জন্য সাহায্য পেয়ে খুশি গোপাল অধিকারি। উত্তরবঙ্গ সংবাদ কর্তৃপক্ষ ও ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তাঁর পরিবার।