ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে লক্ষাধিক টাকা উধাও

305

আসানসোল: বন্ধ হয়েছিল ব্যাংকের ইউপিআই পরিষেবা। ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ করেও অনলাইন মানি ট্র্যানজেকশন চালু হচ্ছিল না। তাই গ্রাহক নিজেই গুগল থেকে ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বর নিয়ে ফোন করতেই অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গেল লক্ষাধিক টাকা। এভাবেই সাইবার অপরাধের শিকার হলেন আসানসোলের একটি বেসরকারি প্যাথোলজিক্যাল ল্যাবের কর্মী কুলটির বাসিন্দা মানস মাজি।

জানা গিয়েছে, প্রতারণার শিকার ওই যুবক কুলটির মিঠানি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকের গ্রাহক। ব্যাংকে অনলাইন মানি ট্র্যানজেকশনের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও সেটি কাজ করছিল না। সেই কারণে ব্যাংকে লিখিতভাবে তা জানানোর পরও কোনও লাভ হয়নি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও তা সমাধান হয়নি। পরবর্তীতে গুগল থেকে হেল্পলাইন নিয়ে ফোন করলেই ঘটে এই ঘটনা। উধাও হয়ে যায় প্রায় ১ লক্ষ ৯ হাজার ২৯ টাকা ৪৮ পয়সা। পরবর্তীতে শুক্রবার তিনি আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার সেলে অভিযোগ দায়ের করে গোটা ঘটনাটি জানিয়েছেন।

- Advertisement -

মানস বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে সেই নম্বরে ফোন করি, রিং হয়ে যায় তবে কেউ ধরেনি। পরে আমার কাছে ফোন আসে পিএনবি হেল্পডেস্কের নাম করে। আমি সেখানে আমার সমস্যার কথা জানাই। সেই হেল্পডেস্ক থেকে আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটি লিংক দিয়ে ক্লিক করতে বলা হয়। সেটা ক্লিক করার পরে আমার কাছে ওটিপি আসে। ওটিপি নম্বর ওদের দিতেই অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা উধাও হয়ে যায়। আমার অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ১১ বারে ১০ হাজার টাকা করে অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নেওয়া হয়। অ্যাকাউন্টে থাকা মোট ১ লক্ষ ৯ হাজার ২৯ টাকা ৪৮ পয়সা পুরোটাই সাইবার অপরাধীরা লুটে নেয়। একটা সমস্যা নিয়ে ফোন করাতে আয় করা টাকা এভাবে লুঠ হয়ে যাবে ভাবতে পারিনি।’

এ প্রসঙ্গে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের এসিপি (ডিডি ও সাইবার) মানব সিংলা বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। আমরা সব ব্যাংক গ্রাহকদের বারবার সচেতন করছি ওটিপি যেন কোনওমতেই কাউকে শেয়ার না করা হয়। তবু গ্রাহকরা সাইবার অপরাধীদের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অভিযোগের তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি আমরা ব্যাংক গ্রাহকদের আরও সচেতন করতে উদ্যোগী হব।’