চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ, ধৃত যুবক

0
162
- Advertisement -

দূর্গাপুর: মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার পরিচয় দিয়ে প্রতারণার ফাঁদ। আর তাতে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়ে ভুঁয়ো পরিচয়পত্র ও জাল নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠল এক চক্রের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের দূর্গাপুর পুলিশের হাতে ধরা পড়ল প্রতারণা চক্রের এক পান্ডা। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার ইস্পাত নগরী দূর্গাপুরে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের নাম প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বাড়ি পুরুলিয়া জেলার মনিহারা গ্রামে। দূর্গাপুরের বেঙ্গল অম্বুজায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকত ঐ যুবক। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ ধৃতের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি নকল পিস্তল, কিছু নিয়োগপত্র ও জাল স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে।

অভিযোগকারী প্রবীর প্রামাণিক বাঁকুড়ার শালতোড়ার বাসিন্দা। দূর্গাপুরের সিটি সেন্টারে তাঁর একটি সেলুন আছে। সেখান থেকেই প্রবীরবাবুর সঙ্গে এই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পরিচয়। প্রবীরবাবু বলেন, ‘মাস খানেক আগে তাঁর সঙ্গে ঐ যুবকের পরিচয় হয়। বিলাসবহুল একটি গাড়ি নিয়ে আমার কাছে আসত এই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সে নিজেকে মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের বড় অফিসার বলে পরিচয় দিয়েছিল। পুলিশ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি চাকরি করে দেবে বলে সে ১ লক্ষ টাকা নেয়। আরও একজনের কাছে সে ৯৫ হাজার টাকা নিয়েছিল। তারপর নানারকম পরিচয়পত্র তৈরী করে আমার কাছে নিয়ে আসে। তাতে ভুল বানান দেখে আমার সন্দেহ হয়। তাছাড়াও ঐসব কার্ডগুলো দেখে আমারও কেমন একটা মনে হচ্ছিল। তাই পুলিশকে সব কথা জানিয়েছিলাম।‘

প্রবীর প্রামাণিকের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরে পুলিশ খোঁজখবর শুরু করে। সব নিশ্চিত হওয়ার পরে ফাঁদ পেতে শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত প্রসেনজিৎকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবক যে গাড়িটি ব্যবহার করত, সেটির মালিক হলেন দূর্গাপুর পলাশডিহার বাসিন্দা এক ব্যক্তি। তাঁর কাছ থেকে ধৃত সেই গাড়ি ভাড়ায় নিয়েছিল।

অন্যদিকে, ধৃত প্রসেনজিৎ এদিন সাফাই দিয়ে বলে, আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশের এক এসিপি চাকরির নামে টাকা নিয়েছেন। তিনি প্রশিক্ষণের নামে ঐ নকল পিস্তলগুলো দিয়েছেন।

যদিও আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি অভিষেক গুপ্তা এদিন বলেন, ‘আসলে চাকরি দেওয়ার নামে এটি একটি প্রতারণা চক্র। ধৃতই এই চক্রের পান্ডা। এই চক্রে আন্তঃরাজ্য যোগ রয়েছে বলে আমাদের অনুমান। কয়েকটি নকল পিস্তল পাওয়া গিয়েছে। কিছু জাল নিয়োগপত্র, স্ট্যাম্প ও প্যাড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, এর পেছনে আর কে কে আছে।‘

- Advertisement -