আইসিকে সংবর্ধনা জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার, বিতর্ক

299

বর্ধমান: জামিন অযোগ্য ধারা মামলায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানাচ্ছেন বর্ধমান থানার আইসিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই এক ছবি ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়েছে পূর্ব বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে। অন্যদিকে, ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি নেতারা কটাক্ষের সুরে বলছেন, অভিযুক্ত শাসকদলের নেতা হলেই পুলিশের কাছে তাঁর সাত খুন মাফ।

বর্ধমান থানার নাড়ি গ্রামের বাসিন্দা শেখ জামাল রায়ান-১ অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি পদে রয়েছেন। জানা গিয়েছে, তিনি জামিন অযোগ্য ধারা মাললায় অভিযুক্ত। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তিনি কিভাবে থানায় পৌঁছে আইসিকে সংবর্ধনা জানালেন। প্রশ্ন তুলে ধরেছেন বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বরা। অন্যদিকে, বর্ধমানের আইনজীবীরা বলছেন, একজন অভিযুক্তের হাত থেকে সংবর্ধনা নিয়ে আইসি আইন ভেঙেছেন।

- Advertisement -

বর্ধমান আদালতের আইজীবী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় উত্তপ্ত হয় বর্ধমানের নাড়ি বেলবাগান এলাকা। সেসময় স্থানীয় সঞ্জয় দাস শেখ জামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান থানায়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসসি অ্যাণ্ড এসটি অ্যাক্ট সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধীক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। এখানেই শেষ নয়। জামালের অত্যাচারের খবর পৌঁছোয় জেলা পুলিশ সুপারের কাছেও। যদিও এতকিছুর পরেও সামান্য তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি শেখ জামালকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশ সক্রিও হয়নি বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, সেই শেখ জামালই আইসিকে সংবর্ধনা জানালেন। এবিষয়ে আইসি সুখময় চক্রবর্তী যদিও জানিয়েছেন, তিনি নতুন থানায় যোগ দিয়েছেন। সবাইকে তিনি এখনও চেনেন না।

বিজেপি নেতা কল্লোল নন্দন বলেন, ‘ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা নিয়ে পুলিশ প্রথমে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। হাইকোর্টের নির্দেশের পর পুলিশ কিছুটা সক্রিয় হয়ে মামলা রুজু করে মাত্র। কিন্তু, অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই প্রমাণ হচ্ছে, অভিযুক্ত শাসকদলের নেতা হলেই তাঁর সাত খুন মাফ। সেই কারণেই একজন অভিযুক্ত হয়েও থানায় গিয়ে আইসিকে পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানাতে পারলেন।’ অন্যদিকে, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র দেবু টুডু।