পুরাতন মালদা : দুচোখে আলো নেই। চারদিকটাই কালো। কিন্তু চোখের প্রতিবন্ধকতা রুদ্ধ করতে পারেনি ওদের গলার সুর। সেই সুর শুধু মালদা নয়, এই জেলার সীমা ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছে রাজ্যস্তরে। মুগ্ধ হয়েছে ছাত্র যুব উৎসবের মঞ্চ। মুগ্ধ সবাই। এবারের ওই প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করে সাড়া ফেলে দিয়েছে পুরাতন মালদার আরপি রায় মেমোরিয়াল ব্লাইন্ড স্কুলের পড়ুয়ারা। শনিবার স্কুলের তরফে সংবর্ধিত করা হল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সাত পড়ুয়াকে।

কার্তিক হাঁসদা, মেনকা সাহা, কুলসুম খাতুন, শেহনাজ খাতুন, নিকিতা মণ্ডল, তনুশ্রী বিশ্বাস ও সম্রাট বর্মন। পুরাতন মালদার মঙ্গলবাড়ি আরপি রায় মেমোরিয়াল ব্লাইন্ড স্কুলের ছাত্রছাত্রী ওরা। কেউ পড়ে চতুর্থ শ্রেণিতে, কেউ পঞ্চম, কেউ বা ষষ্ঠ শ্রেণিতে। ক্লাস আলাদা হলেও এক জায়গায় ভীষণ মিল ওদের। ওরা সবাই গান ভালোবাসে। সেই ভালোবাসার টানেই ছাত্র যুব উৎসব প্রতিযোগিতায় ওদের অংশগ্রহণ। তবে তাতে এমন সাফল্য আসবে কল্পনাতেও ভাবেনি কার্তিক, কুলসুমরা। সমবেত লোকসংগীত প্রতিযোগিতায় জেলাস্তরে প্রথম হওয়ার পর রাজ্যস্তরেও স্কুল ও জেলার মুখ উজ্জ্বল করল দৃষ্টিশক্তিহীন ওই সাত পড়ুয়া। পশ্চিমবঙ্গ জনশিক্ষা প্রসার বিভাগ আয়োজিত রাজ্য ছাত্র যুব উৎসব প্রতিযোগিতায় সমবেত লোকসংগীত বিভাগে তৃতীয় স্থান অধিকার করে তারা। গত ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বসেছিল প্রতিযোগিতার আসর। সেখানে গোটা রাজ্যের ২৩টি জেলা থেকেই বিজয়ী প্রতিযোগীরা অংশ নেয়। যদিও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও অন্য সাধারণ প্রতিযোগীদের পিছনে ফেলে তৃতীয় হয় ব্লাইন্ড স্কুলের এই পড়ুয়ারা। ছাত্রছাত্রীদের এমন সাফল্যে স্বভাবতই খুশির হাওয়া স্কুলে। শনিবার ওই সাত পড়ুয়াকে ফুলের তোড়া, মিষ্টির প্যাকেট দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে গানও গেয়ে শোনায় তারা।

- Advertisement -

স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিমল সিংহরায় বলেন, ওদের জন্য খুব গর্বিত আমরা। দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও সাধারণ প্রতিযোগীদের সঙ্গে টক্কর দিয়ে সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে ওরা। এটা অত্যন্ত গর্বের ও অনুপ্রেরণার। ওদের দেখে অনেকেই উৎসাহিত হবে। প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়ে উৎসাহিত ওই সাত পড়ুয়াও। তাদেরই একজন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী কুলসুম খাতুন জানায়, গান গাইতে ভালো লাগে। আমরা এই প্রতিযোগিতার জন্য অনেক অনুশীলন করেছি। রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতার আগে ভয় করছিল। তবে এখন খুব আনন্দ হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন অন্য প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিতে চাই। ওই সাত পড়ুয়াকে অনুশীলন করিয়েছেন শিক্ষিকা তপতী তালুকদার। তিনি বলেন, ওরা দৃষ্টিশক্তিহীন। কিন্তু কণ্ঠে ওদের সরস্বতীর বাস। ওদের দেখে আমিও উৎসাহ পাই। যতটুকু পারি সাধ্যমতো তালিম দেওয়ার চেষ্টা করেছি। রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় শংসাপত্র, মেডেল ও মানপত্র পেয়ে বেজায় খুশি পড়ুয়ারাও।