গা জোয়ারি রাজ্য জুড়েই, বামেদের ডাকা বনধে আংশিক সাড়া

114

কলকাতা: দশটি বামপন্থী ছাত্র যুব সংগঠনের তরফে ১০ দফা দাবির সমর্থনে বৃহস্পতিবার ডাকা হয়েছিল নবান্ন অভিযান। আর সেই অভিযানে পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে এদিন বামপন্থীদের ডাকে ১২ ঘন্টার বনধ পালিত হয়। সেই বনধকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির সৃষ্টি হয়। বনধকে সফল করতে বামপন্থী ছাত্র যুবরা বিভিন্ন জায়গায় রেল, রাস্তা অবরোধ করে। ব্যাংক সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা যোগদান করতে গেলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বনধ সমর্থকদের বিরুদ্ধে। দোকান, বাজার জোর করে বন্ধ করতে গেলেও মালিকদের সঙ্গে বনধ বিরোধীদের সংঘর্ষ বেধে যায়।

যদিও এদিন পুলিশকে বনধ মোকাবিলায় কিছুটা নরম মনোভাব ছিল পুলিশের। করোনা আবহে দীর্ঘ ১০ মাস বিভিন্ন স্কুল বন্ধ থাকার পর এদিনই সেগুলো খোলা হয়েছিল। বনধের দিন ছাত্র ছাত্রীদের স্কুলে পৌঁছাতে ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হয়। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে গতকালই এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে সকল কর্মীকে এদিন তাঁদের কাজে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তা সত্ত্বেও সরকারি দপ্তরগুলিতে অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন হাজিরা কিছুটা কমই ছিল।

- Advertisement -

এদিন বেলা যত বেড়েছে ততই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বনধ সমর্থকদের হাতে এদিন বেশ কিছু বাস ও অন্যান্য গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি দোকানেও ভাঙচুর হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তীতে সব থেকে বড় ঘটনাটি ঘটে এদিন দুপুর বারোটা নাগাদ। মধ্য কলকাতার এন্টালী থেকে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, বিধানসভার বাম পরিষদ নেতা সুজন চক্রবর্তী, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান, প্রদেশ কংগ্রেস নেতা তথা সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি এন্টালি বাজার থেকে শুরু হয়ে ওই মিছিল মৌলালি মোড়, শিয়ালদহ হয়ে কলেজস্ট্রিট দিকে এগিয়েছে ক্রমশই বেড়েছে উত্তেজনা। এই বিশাল মিছিলকে দেখে রাস্তার আশপাশের সমস্ত দোকানদারেরা তড়িঘড়ি যেমন দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে এবং যানবাহনগুলো অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। শুধু তাই নয় এন্টালী বাজারের সামনে বেশকিছু বাস ও গাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি দোকান বন্ধ করে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। যদিও ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন সুজন চক্রবর্তী ও আবদুল মান্নানরা। তাঁদের মতে, যে দু-একজন কিছু ঘটনা ঘটিয়েছে তাঁদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরবর্তী ক্ষেত্রে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও এদিন বেলা ১০টার কিছু পরেই মৌলালি মোড়ে বনধ সমর্থকরা রাস্তা অবরোধ করে। নিউটাউনের পাথরঘাটায় রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন বনধ সমর্থকরা। হাওড়ায় রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে ফুটবল খেলতে লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও ক্যানিং সহ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা বিভিন্ন এলাকা থেকে বনধ সমর্থকদের ও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটেছে বলেও জানা যায়। সেই সঙ্গে হাওড়া ও শিয়ালদহ শাখার বিভিন্ন জায়গায় বনধ সমর্থকরা রেললাইনে বসে অবরোধ শুরু করে বলেও জানা গিয়েছে।