ডুমুরিয়ার চরে বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য, প্রশাসন নির্বিকার

কার্তিক দাস, খড়িবাড়ি : খড়িবাড়ি সংলগ্ন ডুমুরিয়া (দোদলং) নদীর চর বালি মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। লিজ না থাকা সত্ত্বেও নদীগর্ভ থেকে বেপরোয়াভাবে বালি-পাথর লুট হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই কাজে শাসকদলের এক স্থানীয় নেতার সক্রিয় মদত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে, অপরদিকে এলাকার জলস্তর নেমে যাচ্ছে। অথচ প্রশাসন নির্বিকার।

নদীচরের প্রায় তিন কিলোমিটার জায়গাজুড়ে বালি-পাথর তোলা হয়। কেবলমাত্র ডুমুরিয়া এলাকায় নদীচরের মাত্র সাত একর জমি বাবলু জয়সোয়াল নামে একজনকে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর থেকে লিজ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের নাকের ডগায় নদীর চরের প্রায় আড়াই কিলোমিটার জায়গাজুড়ে বেপরোয়াভাবে বালি-পাথর লুট করছে একটি মাফিয়াচক্র। নদীতে আর্থমুভার নামিয়ে নদীগর্ভ থেকে রাতভর বালি-পাথর তোলা হচ্ছে।

- Advertisement -

এর ফলে গ্রীষ্মকালে চেকরমারি, গুয়াবাড়ি, বোগলাহাগি, তেলেঙ্গাজোত ও ডুমুরিয়া গ্রামে জলস্তর নেমে যাওয়ায় প্রতিবছর পানীয় জলের সংকট দেখা দেয়। অবৈজ্ঞানিকভাবে নদীর চর থেকে বালি-পাথর তোলায় নদীর গতিপথ পালটে যাচ্ছে। প্রতি বছর বর্ষায় নদীর তীরবর্তী জমি, চা বাগান ও গ্রামে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। প্রতিদিন সাতটি আর্থমুভার ও প্রায় ৫০টি ট্র‌্যাক্টর নদী থেকে বালি-পাথর তোলার কাজ করে বলে স্থানীয়রা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, রীতিমতো মাসোহারা দিয়ে মাফিয়ারা এই কাজ করে। আর্থমুভার প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা এবং ট্র‌্যাক্টর প্রতি ৩০০ টাকা মাসোহারা দিতে হয়। খড়িবাড়ি থানার এক পুলিশ অফিসারের স্থানীয় এক আত্মীয় সব ম্যানেজ করেন। এছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেসের বুড়াগঞ্জ অঞ্চলের এক নেতা তাদের নানাভাবে সহযোগিতা করেন।

থানঝোরা চা বাগানের সুপারভাইজার শম্ভু পান্ডে বলেন, লিজ নেই, অবৈধভাবে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নদী থেকে বালি-পাথর তোলা হচ্ছে। চা বাগানের জমি সহ চাষের জমি প্রতি বছর ভেঙে যাচ্ছে। পুলিশ-প্রশাসনের কোনও ভূমিকা নেই। মাফিয়ারা এতটাই সক্রিয় যে প্রশাসনিক অভিযানের খবর তাদের কাছে আগেই পৌঁছে যায়।

খড়িবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বাদল সরকার বলেন, পুলিশ ও বিএলএলআরও-কে বহুবার বলা হয়েছে। ওরা রেইড করতে গেলে এলাকায় কাউকেই খুঁজে পায় না বলে জানায়। খড়িবাড়ি এলাকার কিছু যুবক একবার কয়েকটি গাড়ি আটকে আমাদের খবর দিলে আমরা তিন লক্ষ টাকা জরিমানা করি।

খড়িবাড়ি ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক শুভজিৎ মজুমদার বলেন, পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ে অভাবে নিয়মিত অভিযানের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছিল। থানার সঙ্গে বৈঠক করে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হবে।