নেশার খরচ জোগাতে পুঁচকে ছোঁড়াদের ছিঁচকে চুরি

188

ক্রান্তি : চুরির মতো অসামাজিক কাজে হাত পাকিয়েছে ডুয়ার্সের যোগেশচন্দ্র চা বাগানের ছোটো ছেলেছোকরার দল। তারা শ্রমিক ঘরেরই সন্তান। জানা গিয়েছে, স্কুলছুট ওই ছেলেগুলো নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। নেশার খরচ জোগাড় করার জন্য তারা দিনদুপুরে চুরি করতেও দ্বিধা করছে না। মা, বাবা কাজে যাওয়ার পর তারাও বাড়ি থেকে বেরিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ায়।

পড়শিদের ঘরের দিকে উঁকিঝুঁকি মারা তাদের স্বভাব হয়ে গিয়েছে। সামান্য সুযোগ পেলেই প্রতিবেশীদের ঘরে ঢুকে ঘটিবাটি সহ মূল্যবান সামগ্রী যা হাতের কাছে পাওয়া যায় তাই-ই তারা হাতিয়ে নিয়ে সরে পড়ে এবং গোপন জায়গায় লুকিয়ে রাখে। তারপর এক-এক করে সেগুলি বিক্রি করে তারা প্রতিদিনের নেশার খরচ জোগাড় করে। চুরি করা সামগ্রী কেনার লোকেরও অভাব হয় না। জলের দরে পাওয়া যায় বলে কিছু মানুষ চুরির মাল কিনে পরোক্ষে তাদের উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছে। চুরি করা মাল বিক্রি করে নেশার খরচ জোটায় পুঁচকে ওই ছিঁচকে চোরেরা।

চা বাগানের ভিতর তো বটেই, এমনকি পোড়ো বাড়ির ছাদকেও তারা নেশার আড্ডাখানা বানিয়ে ফেলেছে। অনেকে তাদের গাছের উপর চড়ে নেশা করতেও দেখেছেন। প্রতিবেশীরা জানান, এক জাতীয় আঠা শুঁকে তারা নেশা করে। এমনকি বিড়ি, সিগারেট ও গুটখার নেশাতেও তারা সমানভাবে আসক্ত। হাতেনাতে ধরা পড়ার পরও লুকিয়ে নেশা করা তারা যেমন ছাড়েনি, তেমনি চুরি করা থেকেও তারা বিরত হয়নি। তাদের শাসিয়ে লাভ হয়নি। তাদের বাবা, মাকে নালিশ করেও কোনো ফল হচ্ছে না। বাবা, মা শাসন না করায় তারা উচ্ছন্নে গিয়েছে বলে প্রতিবেশীদের অনেকেই দাবি করেছেন। অনেকে আবার অভিভাবকদের উদাসীনতাকেই সন্তানদের বিগড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মদ্যপ বাবা, মায়ের জন্য সন্তানরাও বখাটে হয়ে যাচ্ছে বলেও তাঁরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

ওই বাগানের শ্রমিক তথা অভিভাবক শিব গঞ্জু ও জানকী ওরাওঁয়ের সাফাই, সঙ্গ দোষেই তাঁদের সন্তানরা বিপথে পা বাড়িয়েছে। মগজ ধোলাই করে তাদের সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা তথা চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মুক্তি সোরেন জানান, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর ও উদ্বেগজনক। এই ব্যাপারে তিনি খোঁজখবর নেবেন এবং এ নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কথাও বলবেন।