রেণুকা দেয় ভাই ‘অধীরকে’ ফোঁটা!

495

বহরমপুর: ‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা, যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, রেণুকা দেয় ভাই অধীরকে ফোঁটা!’ সোমবার এই মন্ত্রের মাধ্যমে এক নতুন ভাই-বোনের সম্পর্ক তৈরি হল লোকসভার কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী এবং বহরমপুরের প্রত্যন্ত এলাকার রেণুকার।

বহরমপুরের মাঝদিয়াপুরের বাসিন্দা রেণুকা মাড্ডি ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের দিন নিজের ছেলের দেহ মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে রেখে ভোটের লাইনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন নিজের অমূল্য একটি ভোট দিয়ে আদরের দাদা অধীর চৌধুরীকে জেতানোর জন্য। আর সোমবারে জীবনে প্রথমবার সেই দাদাকে ভাই ভাইফোঁটা দিলেন রেণুকা। প্রার্থনা করলেন সামনের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে দাদা যেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন।

- Advertisement -

রেণুকা মাড্ডির মেজ ছেলে রজত দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের আগের দিন গলায় দড়ি দিয়ে নিজের বাড়িতে রজত আত্মহত্যা করেন। পরের দিনই ছিল বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের ভোট। কিন্তু জীবনের চরম দুঃখের মুহূর্তও ছেলের দেহ মর্গে রেখে রেণুকা হাজির হয়ে যান ভোটের লাইনে। নিজের অমূল্য একটি ভোট দিয়ে নিশ্চিত করতে ‘দাদা’ অধীর চৌধুরীর পঞ্চমবারের জন্য লোকসভা যাত্রা। তার প্রতি রেণুকার ভালোবাসার কথা শুনে ভোটে জেতার পরই অধীর চৌধুরী হাজির হয়েছিলেন পুত্র শোকে বিহ্বল ‘দিদি’ রেণুকার বাড়িতে। দিদির মাথায় হাত রেখে তাঁকে শান্তনা দিয়েছিলেন। তারপর আবারও রেণুকার বাড়িতে গিয়েছিলেন অধীরবাবু, দিদির কাছ থেকে রাখি পরবার জন্য। এদিন আবার সশরীরে হাজির নিজের দিদি রেণুকার বাড়িতে তাঁর কাছে ভাইফোঁটা নেওয়ার জন্য।

সবার ‘দাদা’ অধীর চৌধুরী তাঁর কাছে আসবেন ভাইফোঁটা নিতে, সে কারণে এদিন সকাল থেকেই ব্যস্ততা ছিল রেণুকার বাড়িতে। দাদার জন্য বিভিন্ন পদ রান্নার পাশাপাশি কিনে রেখেছিলেন প্রচুর মিষ্টি। অধীর চৌধুরী তাঁর বাড়িতে আসতেই হাতে ধরিয়ে দিলেন কলা, ডাব এবং দুটি পান। তারপর অধীরবাবুর কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করলেন এরকম ভাই যেন সকলের হয়। ‘ভাই’ অধীরের দীর্ঘায়ু কামনা করে রেণুকা নিজের হাতে খাইয়ে দিলেন দই-মিষ্টি।

দিদি রেণুকার কাছে জীবনের প্রথম ভাইফোঁটা নেওয়ার পর অধীর চৌধুরী বলেন, ‘আগে আমি কান্দিতে এক দিদির কাছে ভাইফোঁটা নিতে যেতাম। আজ এক নতুন দিদি পেয়ে আমার আনন্দের ভাষা নেই। দিদির আদর ভাইদের কাছে সবসময় অতুলনীয়। এটি কোনও ধর্মীয় উৎসব নয়। ভাইফোঁটা ভারতীয় সংস্কৃতির একটি অঙ্গ, এই দিনটির জন্য দিদি এবং ভাই সকলেই উন্মুখ হয়ে থাকেন।’

অন্যদিকে, নতুন ভাই পেয়ে আপ্লুত রেণুকা মাড্ডি। তিনি বলেন, ‘আমার নিজের দাদা ২০১৭ সালে মারা গিয়েছেন। আমার ছেলের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমি এক নতুন দাদাকে পেয়েছি। যতদিন বেঁচে থাকব সকলের ‘দাদা’ আর আমার ভাই অধীর চৌধুরীকে ফোঁটা দিয়ে যাব।’

প্রথমবার দিদি রেণুকার কাছ থেকে ভাইফোঁটা নেওয়ার জন্য অধীর চৌধুরী এনেছিলেন সুদৃশ্য শাড়ি এবং অন্যান্য উপহার। দিদি রেণুকাও ভাইয়ের জন্য কিনে রেখেছিলেন দামি ব্লেজার। নিজের হাতে সেটি পরিয়ে দিলেন অধীরবাবুকে। উপহার বিনিময়ের পর অধীর চৌধুরী বাড়ির জন্য রওনা হতেই রেণুকা বললেন, ‘আগামী বছর আমি অধীর চৌধুরীকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভাইফোঁটা দিতে চাই, সেই প্রার্থনাও করলাম ভগবানের কাছে।’