অমিত-মমতার দলিতপ্রীতিকে কটাক্ষ অধীরের

334

কলকাতা: অনগ্রসর সম্প্রদায়কে কাছে টানার চেষ্টায় তৃণমূল ও বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনগ্রসর শ্রেণির জন্য কল্পতরু হয়েছিলেন। মতুয়া উন্নয়ন পর্ষদের জন্য টাকা বরাদ্দ করার পাশাপাশি কোথাও স্কুল, কোথাও অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছেন। এছাড়া বাগগি-দুলে, বাউড়ি, মাঝি ইত্যাদি সম্প্রদায়ের জন্য সাংস্কৃতিক পর্ষদ গড়ে দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার আবার বাঁকুড়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আদিবাসীদের নেতা বিরসা মুণ্ডার মূর্তিতে মালা দিয়েছেন, পরে এক আদিবাসী বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সেরেছেন। শুক্রবার কলকাতায় তিনি মধ্যাহ্নভোজ সারবেন এক মতুয়া পরিবারে। এই ঘটনাগুলি উল্লেখ করে তৃণমূল ও বিজেপি, দুই দলের উদ্দেশ্যে তোপ দাগেন অধীর। তিনি বলেন, এর আগে অমিত শাহ যেসব জায়গায় খাওয়া দাওয়া করেছিলেন, আদৌ তিনি কি তারপর সেইসব পরিবারের খবর রেখেছেন? অন্যদিকে, মমতাকে কটাক্ষ করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্য, এবার দিদি মতুয়াশ্রী পুরস্কার দেবেন। বাংলায় এখন লোকদেখানো রাজনীতি চলছে। মুখ্যমন্ত্রী বলতেই পারবেন না যে, তপশিলি জাতি-উপজাতিদের জন্য কতগুলি শূন্যপদ রয়েছে?

- Advertisement -

অমিত শাহ-র দলিতপ্রীতিকে কটাক্ষ করেছেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, অমিত শাহ-র এই মধ্যাহ্নভোজ আসলে রাজনৈতিক স্টান্টবাজি। দলিত, আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নতির জন্য স্টান্টবাজি করলে হবে না। দলিতদের বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করে তাঁদের পাশে থাকা যায় না। মানুষের কষ্ট, মানুষের কথা ওঁরা বোঝেন না। মানুষের কথা শুধু বাম-কংগ্রেসই বলে।

অধীর বলেন, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে কে বড় হিন্দু, তা প্রমাণের প্রতিযোগিতা চলছে। আদিবাসীদের নিয়ে বিজেপি রাজনীতি করছে। বাংলায় মদ বিক্রি হয় ২০ টাকায়, অথচ সবজির দাম ৬০ টাকা। মদ বিক্রি করে ও জুয়া খেলে টাকা আসছে। রাজ্যের পরিস্থিতি এরকমই। তাঁর বক্তব্য, এই অবিচারের প্রতিকার করতে মমতাকে মসনদ ছাড়া করতে হবে। বাম-কংগ্রেস জোটই ক্ষমতায় আসবে।