শীতলকুচির ঘটনায় কমিশন, বিজেপি ও তৃণমূলকে একযোগে বিঁধলেন অধীর

170

বর্ধমান: তৃণমূল আর বিজেপি দুটোই দানব। দুই দানবের সংঘর্ষে বাংলা প্রতিদিন রক্তাক্ত হচ্ছে বলে শনিবার দাবি করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। পাশাপাশি এদিন কোচবিহারের শীতলকুচিতে গুলিকাণ্ডে চারজনের মৃত্যুর ঘটনার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশন, বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে একসঙ্গে কাঠগড়ায় তোলেন। চতুর্থ দফার ভোটে বাংলা রক্তাক্ত হওয়ার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি দুই দলের বিরুদ্ধেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।

পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা আসনে সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য। তাঁর সমর্থনে এদিন বিকেলে নাদনঘাটের নিমতলায় নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই জনসভায় অধীররঞ্জন চৌধুরী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার কংগ্রেস নেতা নেপাল মাহাতো, সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অঞ্জু কর, আইএসএফ রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফায়জাল খান ও অন্য নেতা-নেত্রীরা।

- Advertisement -

জনসভার প্রধান বক্তা অধীররঞ্জন চৌধুরী এদিন আগাগোড়াই তৃণমূল ও বিজেপিকে কার্যত তুলোধনা করেন। এদিন তিনি শীতলকুচিতে গুলিকাণ্ডে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ ব্যক্ত করে বলেন, ‘কয়েকদিন আগেই নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে এই রাজ্যের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজনে গুলি চালাতে পারে। তারপর চতুর্থ দফার নির্বাচনে শীতলকুচিতে গুলিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।’ এই প্রসঙ্গে অধীর দাবি করেন, ‘নির্বাচন কমিশন বাংলার পরিস্থিতি মনে হয় এখনও বুঝতে পারেনি। যে ফোর্স দেওয়া হয়েছে তা বাংলার নির্বাচনের পক্ষে যথেষ্ট নয়। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর ব্যাপারে কমিশন অবশ্যই ব্যর্থ বলে দাবি করেন অধীর।

পশ্চিম বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে হিংসা হানাহানি বেড়ে চলার জন্য অধীর চৌধুরী তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি দুই দলকেই দায়ি করেন। অধীরবাবু বলেন, ‘তৃণমূল আর বিজেপি দুটোই দানব। দুই দানবের মধ্যে প্রতিদিন সংঘর্ষ হচ্ছে। বাংলা রক্তাক্ত হচ্ছে। এরই মধ্যে সারা বাংলায় থেকে ১৪ জন খুন হয়ে গেল। তাই বাংলার মানুষ বলছে তৃণমূল আর বিজেপি এবারে যাবে খরচের খাতায়। সংযুক্ত মোর্চা থাকবে ইতিহাসের পাতায়।’

অধীর চৌধুরী বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি বড় হিন্দু নাকি মমতা বড় হিন্দু, এখন সেটা প্রমাণের প্রতিযোগিতা চলছে। সেই প্রতিযোগিতায় নেমে মমতা এখন মুসলিমদের তালাক দিয়ে হিন্দুদের পক্ষ নিয়েছেন। সেই কারণে মোদি ও যোগীর থেকেও নিজেকে বড় হিন্দু প্রমাণ কারার জন্য মমতা মঞ্চে উঠে এখন চণ্ডীপাঠ করছেন।’ মমতা ও মোদি এবং বিজেপি আর তৃণমূলকে একই বৃন্তের দুটি কুসুম বলে অবিহিত করেন অধীর। তাঁর সাফ দাবি, ‘নন্দীগ্রামে বাংলার দিদি হেরে বসে আছেন।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘ভারতবর্ষে পাচাকারী দল হিসেবেই তৃণমূল কংগ্রেস চিহ্নিত হয়েছে। কয়লা, বালি, গোরু এইসব তৃণমূল পাচার করে বলে অভিযোগ করে অধীর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন অধীর বলেন, ‘দিদি ঠিক করে নিয়েছেন যতদিন ভোট শেষ না হচ্ছে ততদিন তিনি হুইলচেয়ার থেকে নামবেন না। হুইলচেয়ারে বসেই ফুটবল খেলা দেখাবেন।’ ব্রাজিল ফুটবল টিমের কোচ হয়ে কেরামতি দেখানোর উপদেশ মমতাকে দেন অধীর।

একইসঙ্গে অধীর বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সবথেকে বেশি ঋণগ্রস্ত রাজ্য হিসেবে এখন দেশে পরিচিত। প্রতিবছর ৫৫ হাজার কোটি টাকা সুদ দেয় বাংলা। পশ্চিমবঙ্গের এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নথিভুক্ত বেকারের সংখ্যা ৪০ লক্ষ। একটি স্থায়ী পুলিশের চাকরির ভাগে চারটে অস্থায়ী পদে সিভিক ভলান্টিয়ার করেছে। কারণ তাদের ঘুস খেতে কাজে লাগানো যাবে ও তৃণমূলের দালালি করানো যাবে।’ অধীরের দাবি, ‘এইভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঘুষখোর ও তৃণমূলের দালাল তৈরি করা হচ্ছে।’ এবার সংযুক্ত মোর্চাই ‘বাংলায় নতুন বাংলার’ জন্ম দেবে বলে মন্তব্য করেন অধীর।