তৃণমূলের সঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা ওড়ালেন না অধীর

94

কলকাতা: যদি কোনও দলই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় তখন কংগ্রেসের কী অবস্থান হবে? যে অধীর চৌধুরী কথায় কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তাঁকেও এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কূটনৈতিক জবাবের আশ্রয় নিতে হল। প্রকৃত সত্য, সংযুক্ত মোর্চার পক্ষে বিজেপিকে সমর্থন জানানো কোনওমতেই সম্ভব নয়। আর সেকথা মাথায় রেখেই প্রয়োজনে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থনের সম্ভাবনা খারিজ করতে পারলেন না প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। বুধবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি জানালেন, রাজনীতি সম্ভাব্যতার শিল্প।

এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে প্রশ্ন করা হয় ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে কি কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করবে? প্রশ্নের সরাসরি কোনও উত্তর দেননি অধীর। তবে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। বলেন, কাল্পনিক প্রশ্নের সময় এটা নয়। আমরা সংযুক্ত মোর্চা নবান্ন দখলের লক্ষ্যে এগোচ্ছি। সংযুক্ত মোর্চাকে কারা সমর্থন করবেন সেটা তাদের ব্যাপার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে গেলে কোথায় যাবেন আমরা জানি না। এমনও হতে পারে সংযুক্ত মোর্চা যখন নবান্ন দখল করতে যাচ্ছে তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বাঁচার জন্য সংযুক্ত মোর্চার সঙ্গী হলেন বা সংযুক্ত মোর্চার কাছে আবেদন জানালেন। এরপরেই বহরমপুরের সাংসদের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, পলিটিকস ইজ দ্য আর্ট অফ পসিবিলিটিজ।

- Advertisement -

সম্প্রতি রাজ্যের ভোট পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি সহ দেশের প্রত্যেক বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলকে চিঠি লিখে একজোট হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। এই প্রসঙ্গে অধীর বলেন, তৃণমূলনেত্রী কথায় কথায় বলতেন কংগ্রেসকে তো আমি মিউজিয়ামে পাঠিয়ে দিয়েছি। কখনও আমি কংগ্রেস করেছি ভাবতে লজ্জা হয়। এটা আমার কথা নয় দিদির কথা। সেই দিদি এখন সোনিয়া গান্ধির কাছে চিঠি লিখছেন। তাঁর সংযোজন, নন্দীগ্রামের একটা বুথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২ ঘণ্টা বসে থাকলেন। যেখানে নির্বাচন কমিশনের কাছে দরবার করা দরকার সেখানে রাজ্যপালের কাছে আর্জি জানালেন। অতএব যখন বুঝলেন তাঁর বিপদ কাটছে না তখন তাঁর মনে হল চিঠিটা দেওয়া দরকার।

অধীরের মতে, ভারতবর্ষে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাজনীতি সোনিয়া ও কংগ্রেসকে ঘিরেই আবদ্ধ হয়। সেটা মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেছেন বলেই তাঁকে চিঠি লিখতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মমতা নিজের হার স্বীকার করেছেন। এটা কংগ্রেসের কাছে তাঁর রাজনৈতিক হার। তিনি তাঁর নৈতিক হার স্বীকার করুন। আমি মনে করি, এর মধ্যে দিয়ে প্রমাণ হল শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, সারা ভারতে সাম্প্রদায়িক দল বিজেপির মোকাবিলায় কংগ্রেসই একমাত্র নির্ণায়ক শক্তি। যারা এখনও তৃণমূলকে সমর্থন করেন তাদের বলব, পান্ডাকে না দেখে সরাসরি মন্দিরটা দেখুন। তৃণমূলকে সমর্থন না করে সরাসরি কংগ্রেসকে সমর্থন করুন।

যদিও আইএসএফের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অধীরের বক্তব্য, ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট ধর্মনিরপেক্ষ কিনা তা আমার জানা নেই। তবে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেই ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শকে মান্যতা দিয়ে আমরা জোটে শামিল হয়েছি। তাই আমি মনে করি এই জোট ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের ধর্মনিরপেক্ষতাকেই মান্যতা দেবে।