ধর্ম পরিচয় পেতে আদিবাসীদের একমাসের সচেতনতা শিবির

326

জটেশ্বর: ভোটের সময় রাজনৈতিক দলগুলি আদিবাসীদের নিয়ে টানাটানি করে। ক্ষমতাসীন হলে আদিবাসীদের নানা সমস্যা সমাধান-সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু, ভোট মিটলে আদিবাসীদের খোঁজ নেওয়ার কেউ থাকে না। এ কারণে, স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও আদিবাসীরা নানা সরকারি প্রকল্প-সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে এবার পথে নামল ফালাকাটার আদিবাসী সংগঠন আদিবাসী বিকাশ পরিষদ।

সংগঠনের দাবি, আজও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ সরকারি ফর্মে নিজেদের ধর্মপরিচয় ‘আলাদা’ বা others লিখতে বাধ্য হন। আবারও কখনও লিখে দেওয়া হয়। ধর্ম পরিচয় না থাকায় আদিবাসীরা নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক সমস্যায় পড়ছেন। তাই, সংগঠনের তরফে আওযাজ তোলা হয়েছে, আগামী ২০২১ সালের জাতীয় জনগণনার সময় আদিবাসীদের ধর্ম পরিচয় নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। এই দাবিতে ফালাকাটার মাড়োয়াবাড়ি বাজারে রবিবার থেকে টানা একমাসবাসী আদিবাসী সচেতনতা শিবির চালু করল ফালাকাটার আদিবাসী বিকাশ পরিষদ।

- Advertisement -

সংগঠন সূত্রে খবর, জাতিগত পরিচয় পত্র কিংবা সরকারি নথিতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজনকে হিন্দু বলা হলেও তাদের ধর্মের ক্ষেত্রে অন্যকিছু(Other) লিখতে হয়। এরজেরে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে। তাই আগামী জনগণনায় আদিবাসীদের পৃথক কলাম ঘোষাণা করার দাবিতে সচেতনা শিবির করে প্রচার চালাচ্ছে সংগঠনটি। ডুয়ার্সের সমস্ত চা বাগান কিংবা আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এক মাস ধরে সচেতনা প্রচার করার পর বিষয়টি জেলা শাসকের মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও জানাগিয়েছে।

সংগঠনের রাজ্য কমিটির তরফে বিনয় মুর্মু বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ নানা ভাবে বঞ্চিত। তাই, আগামী জনগণনায় আদিবসীদের আলাদা কলাম দেওয়ার দাবিতেই আমরা সচেতনতা প্রচার করছি।

এদিন আদিবাসী বিকাশ পরিষদের জটেশ্বর ১ অঞ্চল কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ২৫ জনের নতুন কমিটির সভাপতি হয়েছেন মঙ্গল মুন্ডা, সম্পাদক হয়েছেন অমরদ্বীপ কুজুর এবং মঞ্জুরী মুন্ডা কোষাধ্যক্ষ্যা হয়েছেন।