করোনার জেরে আদিনা ডিয়ার পার্কে পিকনিকে নিষেধাজ্ঞা

213

গাজোল: দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রথায় এবার যেন ছেদ পড়ল। অন্য বছরগুলিতে বছরের শেষ দিনে মালদা জেলার অন্যতম পর্যটন স্থল আদিনা মসজিদ এবং আদিনা ডিয়ার পার্ক এলাকায় যে পরিমাণ মানুষের সমাগম ঘটত, এবার একেবারে তার উলটো ছবি দেখা গেল সেখানে।

করোনা পরিস্থিতির জেরে প্রশাসনের তরফে আদিনা ডিয়ার পার্ক সংলগ্ন এলাকায় পিকনিকের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আর তার জেরেই বৃহস্পতিবার প্রায় জনশূন্য আদিনা ডিয়ার পার্ক সংলগ্ন এলাকা। সারাদিনে বাইরে থেকে হাতে গোনা কয়েকটি গাড়িতে করে পর্যটক আসলেও মন উদাস করেই ফিরে যেতে হচ্ছে তাঁদের। কেননা বৃহস্পতিবার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ ছিল আদিনা ডিয়ার পার্ক। তবে এদিন যাঁরা আদিনা ডিয়ার পার্কে এসেছেন তাঁরা কেউই জানেন না যে প্রতি বৃহস্পতিবার আদিনা ডিয়ার পার্ক বন্ধ থাকে। ফলে এতটা পথ পেরিয়ে এসম স্বাভাবিকভাবেই মন উদাস হয়ে পড়ে তাঁদের।

- Advertisement -

এদিন পরিবারের সকলের সঙ্গে রায়গঞ্জ থেকে এসেছিলেন রুমা পাল, পিয়ালী পাল, সুশীল পাল, কাজলী পাল। তাঁরা জানান, অনেক উৎসাহ নিয়ে বছরের শেষ দিনে আদিনা ডিয়ার পার্কে তাঁরা ঘুরতে এসেছিলেন। কিন্তু এখানে এসে তাঁরা জানতে পারেন এদিন আদিনা ডিয়ার পার্ক বন্ধ থাকে। ফলে শিশুদের মন খারাপ হয়ে পড়ে।

পাশাপাশি মালদা গৌড় রোড বাশুলিতলা এলাকা থেকে এসেছিলেন চায়না সাহা, দিয়া দাস সহ অন্যরা। এদিন ডিয়ার পার্কের আশেপাশের এলাকা দেখে হকচকিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। অন্যবার বছরের শেষ দিনে এই সমস্ত জায়গায় তিল ধারনের জায়গা থাকে না। কিন্তু এবার চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। করোনা পরিস্থিতির জন্য গোটা এলাকা শুনশান বলে মনে করছেন তাঁরা।

এদিকে পর্যটক না আসায় স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসা হয়নি ছোট দোকানদারদের। প্রায় সারাবছরই আদিনা ডিয়ার পার্কের গেটে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে বেশ কয়েকটি ছোট দোকান বসে। তবে শীতের সময় পিকনিকের মরসুমে সেই দোকানদারদের সংখ্যাটা অনেক বেড়ে যায়। বাড়তি কিছু বিক্রির আশায় আদিনা ডিয়ার পার্ক সংলগ্ন এলাকায় দোকান দেন তাঁরা। বিশেষ করে ২৫ ডিসেম্বর, বছরের শেষ এবং প্রথম দিন পর্যটক এবং পিকনিকে ভিড় উপচে পড়ে। যার ফলে বিক্রিও হয় অনেক বেশি। কিন্তু এবার করোনা যেন সেই পরিস্থিতি পালটে দিয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশে আদিনা ডিয়ার পার্ক এবং সংলগ্ন এলাকায় পিকনিক করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যার ফলে একটাও পিকনিক পার্টি আসেনি। পর্যটকের সংখ্যাও হাতে গোনা। আর এর জেরে বিক্রি প্রায় হয়নি বললেই চলে। বর্তমানে যে পরিস্থিতি তাতে লাভ তো দূরের কথা, খরচটুকুও হয়তো উঠে আসবে না। তবে বছরের প্রথম দিনে পর্যটকের সংখ্যা হয়তো অনেকটা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।