ফিরে এসেও কেন ফিরতে পারছেন না শাহরুখ

138

নিউজ ব্যুরো : বুর্জ খলিফার ভেতরে শুটিং। কোনও বলিউডি ছবির ক্ষেত্রে এই প্রথম। বছরের সবচেয়ে বড় ছবি। তার চেয়ে বড়কথা, অ্যাকশন জনারে তাঁর জীবন শুরু করলেন শাহরুখ। অথচ এমন ছবির জন্য ডেট খালি নেই! প্রথম পোস্টারও তৈরি হল না! আদিত্য চোপড়া বিভ্রান্ত। কেন? খতিয়ে দেখলেন মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায়

বছরের সেরা ছবি এখনও অবধি তার রিলিজ ডেটই ঠিক করে উঠতে পারছে না। লাভ-লোকসানের হিসেব করতে করতে প্রযোজকের খাতা আর মাথা সবটা ভরে গেল, তবু এখনও অবধি দিনক্ষণ ছকে উঠতে পারলেন না। আদিত্য চোপড়া বোধহয় এখন ভারতের সেরা বিভ্রান্তদের মধ্যে একজন। একে তো তাঁর নিজের কোম্পানির পঞ্চাশ বছর। দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা সংস্থা যশরাজ প্রোডাকশন্স তার গৌরবের মাটিতে দাঁড়িয়েছে। টানা এগারো মাস বলিউডের ছোট-বড় সবকটা দরজা বন্ধ থাকার পরে এই সবে সবে আশার আলো ঢুকছে জানলা দিয়ে সিনেমা হল আবারও সেই পুরনো ছন্দে ফিরছে। প্রত্যাবর্তনের এই সময়ে যশরাজের পঞ্চাশ। এর চেয়ে রাজযোটক আর কিছু হতেই পারে না। তার ওপর আবার নিজের সেরা ইভেন্টে ভারতীয় বিনোদনের সেরা আইকনটিকে পেয়ে গেছেন আদিত্য। সুদীর্ঘ দু বছর নির্জনবাসের পর আবারও লাইট সাউন্ড ক্যামেরা শাহরুখ। শাহরুখ খান। যশরাজ পঞ্চাশের শ্রেষ্ঠ ব্র‌্যান্ড-ফেস।

- Advertisement -

তাহলে আদিত্য চোপড়ার নিশ্চয়ই অত্যন্ত উল্লসিত হওয়ারই কথা। হয়তো হয়েছিলেন। কিন্তু সেই মহার্ঘ্য নির্মাণের মুক্তির তারিখ বার করে উঠতে না পারলে অস্থির হওয়ার কথা কিনা! ঠিক তাই-ই হয়ে আছেন আদিত্য চোপড়া। প্রকাশ্যে তাঁর মুখপাত্রের দাবি, ২০২১ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে যশরাজ পঞ্চাশ উপলক্ষ্যে সাতটি ছবি মুক্তি পাবে। আমাদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজটিও এর মধ্যেই আসবে। ঠিক সময়ে তার দিনক্ষণ ঘোষণা করে ফেলবেন আদিত্য চোপড়া। বাস্তব কিন্তু একেবারেই অন্য কথা বলছে। বলিউডের বড় ছবি রিলিজের বড় সময়গুলো এবছর সব বুক করা। আগে থেকেই। ইদ তো বরাবর সলমন খানের। এবছরও তাই–রাধে। প্রথম গ্রীষ্মাবকাশটি অক্ষয় কুমারের সূর্যবংশী। গান্ধিজয়ন্তী কঙ্গনা রানাওয়াতের ধক্কড়। দীপাবলি শাহিদ কাপুর আর রণবীর সিংয়ের জার্সি এবং ৮৩। আগে-পরে আসার কথা এই দুটি ছবির। বড়দিনে এবছর আমির খানের লাল সিং চাড্ডা। এদের মাঝখানেও অবশ্য রয়েছে আরও বেশকিছু বহুল প্রত্যাশিত ছবির লাইন। রশমি রকেট, লুপ লপেটা, চেহরে, থালাইভি, বব বিশ্বাস, বিগ বুল, আদিপুরুষ, আতরঙ্গি রে। প্রতিটা ধামাকা ছবিকে মাথাপিছু অন্তত দুটো উইকএন্ড ছাড়তে গেলে আর সময় কোথায়! তার ওপর শাহরুখ খানকে তো বছরের যে কোনও মরশুমে এনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া যায় না। তাহলে!

এই তাহলেটাই আদিত্য চোপড়ার সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ। পাঠান নিয়ে তাঁর গর্ব, নাকি উদ্বেগ, ঠিক কোনটা করা উচিত, বুঝতে পারছেন না। বিভ্রান্তি কি সাধে হচ্ছে!  আদিত্য চোপড়া বা যশরাজ প্রোডাকশন্স, কারও তরফে তাই পাঠান সিনেমা নিয়ে কোনও অফিশিয়াল প্রোমোশন নেই। ঘোষণা নেই। উচ্চবাচ্য নেই এখনও অবধি। শাহরুখ খান এতবছর পরে হাউজে ফিরলেও আগাম কোনও পোস্টার নেই। বলিউড হোক, বা বাংলা, চলতি ট্রেন্ড কিন্তু এটা নয়। যে কোনও ছবিরই আগাম পোস্টার হয় আজকাল। তার ওপর সেরা নামগুলো থাকলে তো কথা নেই। শাহরুখ খান, দীপিকা পাড়ুকোন, সলমন খান, জন আব্রাহামদের কোনও একজন থাকলেই তো ঘোষণায় ছয়লাপ। এখানে আবার তাঁরা সবাই। তার ওপরে বুর্জ খলিফার ভেতরে শুটিং। কোনও বলিউডি ছবির ক্ষেত্রে এই প্রথম। অথচ যশরাজ প্রোডাকশন্স একেবারে নীরব। আদিত্য চোপড়া একেবারে নীরব। হাউসের সূত্রের কথামতো সঠিক সময়ে অপেক্ষায়।

২০২১-এ সেই সঠিক সময় আসবে কিনা, এখনও স্থিরতা নেই। কিন্তু দুবছর অবসরের পর ফিরে এসে রাজকুমার হিরানি কিংবা অ্যাটলি-র ছবিতে শুটিং শুরুর আগে পাঠান-এর মুক্তিটা শাহরুখ খানের পক্ষে আশু প্রয়োজন। তাঁর নতুন করে বাজার তৈরির প্রযোজন। রোমান্টিক জনার থেকে অ্যাকশনে দিকবদল। এই বদলটা তাঁর কামব্যাকের পক্ষে কতটা ফলপ্রদ হল, সেটা জানবেন না! এরপর হিরানি বা অ্যাটলি কিংবা ডিকে-কৃষ্ণ, পরপর যাঁদের চিত্রনাট্য বেছে রেখেছেন শাহরুখ, তাঁদের সবকটা গল্পই তো অ্যাকশনের। যশরাজ পঞ্চাশ আর শাহরুখের অ্যাকশনীয় পুনর্জন্ম দু-দুটো গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়ে এগোচ্ছে পাঠান। কিন্তু সিনেমা হল মিললেও ২০২১-এর ডেট মিলছে কই।  আদিত্য চোপড়া বিভ্রান্ত হবেন না!