করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলায় চার পুরসভা ও বেশকিছু পঞ্চায়েত এলাকায় লকডাউন

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: প্রতিদিনই পূর্ব বর্ধমান জেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন আগেই বর্ধমানে শহরে লকডাউন জারি করেছে। এবার মেমারি, কালনা ও কাটোয়া পুরসভা এলাকা ছাড়াও জেলায় বেশকয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকায় ২৬ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত লকডাইন জারি করা হল। জেলা শাসক বিজয় ভারতি শুক্রবার এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার ২৫ জুলাই ও ২৯ জুলাই গোটা রাজ্যে লকডাউন ঘোষণা করেছে। আবার জেলা প্রশাসন ২৬ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত নির্দিষ্ট এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করেছে। ফলে ২৫ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত জেলার চারটি পুরসভা ও বেশকয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকায় টানা পাঁচ দিন লকডাইন চলবে। লকডাউনের দিনগুলিতে শুধুমাত্র জরুরী ও অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবায় ছাড় দেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি গণপরিবহন সহ দোকান বাজার সবই বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

- Advertisement -

পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন যে যে পঞ্চায়েত এলাকায় লকডাউন জারি করেছে তার মধ্যে রয়েছে বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকের রায়ান ১, সরাইটিকর ও বেলকাস পঞ্চায়েত এলাকা। পাশাপাশি লকডাউন চলবে পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের নসরতপুর, সমুদ্রগড় ও শ্রীরামপুর পঞ্চায়েতে। এছাড়াও জেলা প্রশাসন মেমারি-১ ব্লকের দেবীপুর পঞ্চায়েত এলাকায় ২৬ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন জারি করেছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলার বাসিন্দারা।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মাঝে কিছুদিন আক্রান্তের সংখ্যা নিম্নমুখী থাকলেও গত এক সপ্তাহে সমগ্র জেলায় কোভিডের গ্রাফ উর্ধ্বমুখী। শুধুমাত্র বৃহস্পতিবার একদিনে জেলায় ৪৬ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। জেলায় বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২৪ জন। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। ২৩৬ জনেরও বেশী করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সমগ্র জেলায় ১৬৯টি কনটেনমেন্ট জোন করেও রোখা যাচ্ছে না সংক্রমণ। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলাতেই প্রশাসন জেলার চারটি পুরসভা এলাকা ও বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকায় লকডাউন জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলার চার পুরসভার প্রশাসকরা জানিয়েছেন, লকডাউন যথাযথভাবে পালনে কোনও শিথিলতা রাখা হবে না।