জেলায় ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা কমাল প্রশাসন

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : নতুন ধান উঠতে এখনও মাস দুয়েক বাকি। কিন্তু রাজ্যের নির্দেশে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় আগামী ২ নভেম্বর থেকে সহায়ক মূল্যে ধান কেনার কাজ শুরু হতে চলেছে। গত বছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশ কিছু ধান কম কিনতে পেরেছিল খাদ্য দপ্তর। তাই এবার ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা আগের বছরের তুলনায় সামান্য কমানো হয়েছে। এবছর জেলায় আটটি ব্লক কিষান মান্ডিতে আটটি কেন্দ্রীয় ধান ক্রয়কেন্দ্র বা সিপিসি খুলছে। চলতি অক্টোবর মাস থেকেই চাষিদের নাম নথিভুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। সরাসরি নাম নথিভুক্ত করার পাশাপাশি চাষিরা এবার অন্নদাত্রী প্রকল্পের মাধ্যমেও নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

তবে জেলা খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মরশুমে যেসব চাষি ধান ক্রয়কেন্দ্রগুলিতে নাম নথিভুক্ত করে ফেলেছিলেন, তাঁদের আর নতুন করে নাম তুলতে হবে না। এবছর রাজ্য সরকার অন্তত এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে করোনাজনিত পরিস্থিতিকালে কৃষকদের হয়রানি কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। এবছর জেলার ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত মরশুমে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লক্ষ মেট্রিক টন। কিন্তু কেনা হয়েছিল প্রায় ৯১ হাজার মেট্রিক টন। তাই চলতি বছরে ৯৫ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে জেলা খাদ্য দপ্তর। দিন কয়েক আগে ধান কেনা নিয়ে জেলায় একটি বৈঠকও হয়ে গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, জেলার ৮টি সিপিসির মাধ্যমে ধান কেনা হবে। পরে প্রয়োজনে শিবির করা হবে। আরও কেন্দ্রও বাড়ানো হতে পারে। খরিফ মরশুমে কুইন্টাল পিছু ১,৮৬৮ টাকায় ধান কিনবে সরকার। ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করলে কুইন্টাল পিছু বাড়তি ২০ টাকা করে উৎসাহ ভাতাও দেওয়া হবে।

- Advertisement -

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রতিবছর ব্যাপক পরিমাণে ধান চাষ হয়। তপন, কুশমণ্ডি, কুমারগঞ্জের মতো বহু ব্লকে ধান চাষ হয়। বাকি ব্লকগুলিতেও কমবেশি ধান চাষ হয়ে থাকে। প্রতি বছরই ধান কেনা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ সামনে আসে। মূলত ফড়েদের দাপটের অভিযোগই বেশি আসে। খাদ্য দপ্তরের এক কর্তা বলেন, গতবার যাঁদের নাম তোলা ছিল, তাঁদের আর নতুন করে নাম তুলতে হবে না। তবে মোবাইল নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জমি সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তন করা যাবে। চাষিরা সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা পাবেন। জানা গিয়েছে, অন্নদাত্রী মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও নাম নথিভুক্ত করার আবেদন করা যাবে। যদিও খাদ্য দপ্তরের এক কর্তাদের মতে, সরকারি জায়গায় ধান বিক্রিতে চাষিদের একটা অনীহা আছে। কিছু কাগজপত্র দরকার হয় বলে অনেকেই এখানে আসতে চান না।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জেলায় যে পরিমাণ ধান উৎপাদন হয় তার কিছুটা অংশই কেনে সরকার। বাকিটা খোলা বাজারেই বিক্রি হয়। অভিযোগ, সেখানেও ফড়েরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তার জেরে চাষিরা ধানের ন্যায্যমূল্য পান না। তবে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতে গত কয়েক বছর ধরে জেলা খাদ্য দপ্তরের নজরদারির কারণে এই অভিযোগগুলি কিছুটা কম হতে শুরু করেছে। এবারেও এই বিষয়ে নজর রেখে জেলা খাদ্য দপ্তর প্রথম থেকেই নজরদারি চালাবে বলে জানিয়েছেন কর্তারা। জেলার খাদ্য নিয়ামক জয়ন্তকুমার রায় বলেন, আগামী ২ নভেম্বর থেকে ধান কেনা শুরু হবে। সেইমতো সব প্রস্তুতিই নেওয়া হচ্ছে।