যানজটে জেরবার হরিশ্চন্দ্রপুরে বিকল্প রাস্তার খোঁজ প্রশাসনের

সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর : নিত্য যানজটে জেরবার হরিশ্চন্দ্রপুরের লাইফলাইন বলে পরিচিত হরিশ্চন্দ্রপুর শহিদ মোড় থেকে হাসপাতাল মোড় এলাকা। প্রায় দুই কিলোমিটারের বেশি এই রাস্তার যানজটের জন্য প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যদিও শনিবার থেকে বাসিন্দাদের দাবি মেনে প্রশাসনের উদ্যোগে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে ওই রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

তবে এলাকার মানুষের অভিযোগ, বাকি সময়গুলিতে ওই রাস্তায় বড় গাড়ি ঢুকে যানজট তৈরি করছে। এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তা চওড়া করার পাশাপাশি বিকল্প রাস্তা নিয়ে চিন্তা করুন প্রশাসন। তাহলে অন্তত অ্যাম্বুল্যান্স সহ অন্য জরুরি পরিষেবা যানজটের ফলে আটকে থাকবে না। জেলা পরিষদের শিশু, নারী ও ত্রাণ কর্মাধ্যক্ষ মর্জিনা খাতুন জানান, আমি এলাকার সমস্যাটি শুনেছি। রাস্তা চওড়া করা নিয়ে পদ্ধতিগত সমস্যা রয়েছে। তবে আশেপাশের বিকল্প রাস্তাগুলিকে পাকা করে সেগুলিকে ব্যবহার করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে আমি এই বিষয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতির সঙ্গে কথা বলব। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের উন্নয়ন আদিকারিক অনির্বাণ বসু বলেন, শহিদ মোড় থেকে থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত রাস্তাটির দীর্ঘদিনের পুরোনো। রাস্তাটি চওড়া করতে গেলে অনেক পদ্ধতিগত সমস্যা রয়েছে। অন্য কোনও বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করা যায় কি না, সেই বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি।

- Advertisement -

হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার বাসিন্দাদের এই রাস্তা দিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর হাসপাতাল, প্রাণী চিকিৎসালয়, ব্লক অফিস, ব্যাংক, সার্কেল ইনস্পেকটর অফিস, সিডিপিও অফিস, হরিশ্চন্দ্রপুর হাইস্কুল, বালিকা বিদ্যালয় এছাড়াও বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সর্বোপরি বিদ্যুৎ দপ্তরে আসতে হয়। এছাড়াও হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামের লোকদের রেলওয়ে স্টেশন কিংবা বাস স্টপেজে আসতে গেলেও এই রাস্তার উপরেই ভরসা করতে হয়। বেশ কিছুদিন আগে স্থানীয় প্রশাসন দিনের নির্দিষ্ট সময়ে বড় গাড়ি ঢোকা নিষিদ্ধ করেছিল এই রাস্তাতে। এর ফলে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছিল। কিন্তু মাঝখানে কয়েক মাস নজরদারির অভাবে বড় গাড়ি এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করছিল। আবার শনিবার থেকে প্রশাসনিক নজরদারিতে ওই রাস্তায় বড় গাড়ি ঢোকা দিনের নির্দিষ্ট সময় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও দিনের কিছু সময় ওই রাস্তায় যানজট নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তা চওড়া করার পাশাপাশি বিকল্প রাস্তা চিন্তা করুণ প্রশাসন।

কিন্তু প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, রাস্তার দুই ধারে বেশিরভাগ অংশই রায়তি জমি। তাছাড়া রাস্তাটিও জমিদারদের দান করা জমিতে একসময় জেলা বোর্ড নির্মাণ করেছিল। তাই রাস্তা চওড়া করতে গেলে পদ্ধতিগত সমস্যা আছে। স্থানীয় বাসিন্দা তথা প্রাক্তন ব্লক তৃণমূল সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, হরিশ্চন্দ্রপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এটি। প্রশাসনের অবিলম্বে রাস্তাটি চওড়া করা উচিত। আমি এই বিষয়ে চাঁচলের মহকুমা শাসক এবং হরিশ্চন্দ্রপুরের বিডিও-র কাছে আবেদন জানিয়েছি। রাস্তাটি চওড়া হলে নিত্যদিনের যানজটের হাত থেকে মুক্তি পাবেন এলাকার মানুষ। এই রাস্তায় পাশাপাশি দুটি বড় গাড়ি চলে আসলে রাস্তা পুরোপুরি ব্লক হয়ে যাচ্ছে। রাস্তা দিয়ে নিত্যদিন প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে জনপ্রতিনিধিরাও যাতায়াত করেন। যানজটে অনেক সময় হরিশ্চন্দ্রপুর হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স মাঝরাস্তায় আটকে পড়েছে। বের হওয়ার কোনও বিকল্প রাস্তা পাচ্ছে না। ফলে কষ্ট বাড়ছে মুমূর্ষু রোগীদের। রাস্তা নিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে জনপ্রতিনিধি সবাইকে চিন্তা করা উচিত।

হরিশ্চন্দ্রপুর উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক মফিজউদ্দিন আহমেদ জানান, ইতিপূর্বে প্রশাসনের তরফে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বড় গাড়ি এই রাস্তায় ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। মাঝখানে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও আবার দিনের নির্দিষ্ট সময়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ শুরু করা হয়েছে। এর ফলে কিছুটা হলেও যানজটের হাত থেকে রেহাই মিলছে। কিন্তু সেটা স্থাযী সমাধান নয়। এই রাস্তায় যানজট মুক্ত করতে হলে বিকল্প রাস্তার সন্ধান করা উচিত। তাছাড়া আমরা নাগরিক উন্নয়ন সমিতির তরফে এলাকার বিডিওকে জানিয়েছিলাম ব্লক লাগোয়া তেঁতুলবাড়ি রাস্তাটিকে সংস্কার করে বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করা যেতেই পারে। এছাড়াও কিছু যানবাহনকে ইলেক্ট্রিক অফিস মোড় থেকে ঘুরিয়ে দিয়ে সরাসরি ৮১ নম্বর জাতীয় সড়কে তোলা যেতে পারে। এই যানজট নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দিনের নির্দিষ্ট সময়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা।

বিডিও অনির্বাণ বসু বলেন, এই সপ্তাহ থেকেই আবার ওই রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ শুরু করে দেওয়া হয়েছে। ওই রাস্তায় সকাল দশটা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং অন্যদিকে বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বড় গাড়ি ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগে যেভাবে ওয়ান ওয়ে সিস্টেমে দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময় যানবাহন চলাচল করত, সেটাই আবার শুরু করা হয়েছে। বাকি সময়গুলো কী করে যানজট এড়ানো যায়, সেই চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।