রোগীর চিকিৎসায় চটজলদি স্বাস্থ্য সাথী কার্ড তৈরি করে দিল প্রশাসন

87

ফালাকাটা: ভোটের আগে ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিকে হাতিয়ার করে প্রচারে জোর দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এজন্য রবিবার ফালাকাটায় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের তৎপরতায় কিডনির অসুখে আক্রান্ত মশলাপট্টির বাসিন্দা পলি বিশ্বাস পালকে চটজলদি স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড করিয়ে দেয় ব্লক প্রশাসন। প্রশাসনের সক্রিয়তায় খুশি রোগীর পরিবার। এটাকেই ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে প্রচার শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

সূত্রের খবর, প্রায় দু’সপ্তাহ আগে মশলাপট্টির বাসিন্দা পলি বিশ্বাস পাল (৪৫) কিডনির অসুখে আক্রান্ত হন। কোচবিহার জেলা হাসপাতালে কয়েকদিন চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলে তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি বাড়িতে ফের অসুস্থ হলে ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তির পর শিলিগুড়িতে রেফার করা হয়। সেখানে একটি নার্সিংহোমে ডায়ালিসিস সহ অন্যান্য চিকিৎসা চলছিল। তবে আর্থিক সংকটের কারণে নার্সিংহোমে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে হিমসিম খাচ্ছিল রোগীর পরিবার। বিষয়টি জানতে পেরে ওই রোগীর চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের ফালাকাটা ব্লক সভাপতি শুভব্রত দে। ওই রোগীর নামে দ্রুত স্বাস্থ্য সাথী কার্ড করানোর প্রস্তাব দলের তরফে ব্লক প্রশাসনকে জানানো হয়। রোগীর পরিজনরাও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে এব্যাপারে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। তারপর স্থির করা হয় যে, রোগীকে আলিপুরদুয়ারের জেলা হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে রেখে চিকিৎসা করানো হবে। এজন্য এদিন শিলিগুড়ি থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে রোগীকে আলিপুরদুয়ার নিয়ে যাওয়া হয়। পথে ফালাকাটায় দাঁড়িয়ে চটজলদি স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড তৈরি করে দেয় ব্লক প্রশাসন। সেখানে ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার, তৃণমূল যুবর ব্লক সভাপতি শুভব্রত দে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -

বিডিও বলেন, ‘এদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে সঙ্গে সঙ্গেই স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড তৈরি করে দেওয়া হয়। এই কার্ড নিয়ে পরিজনরা যেকোনও জায়গায় রোগীর চিকিৎসা করাতে পারবেন।’ তৃণমূল যুবর ব্লক সভাপতি শুভব্রত বাবু বলেন, ‘আমরা সব সময় মানুষের পাশে আছি। রোগীর খোঁজ পেয়ে দ্রুত স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড করানোর জন্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রশাসনও দ্রুত এব্যাপারে পদক্ষেপ করেছে। এখন যেকোনও নার্সিংহোমেই ওই রোগীর চিকিৎসা হবে। আমরা এই সাফল্যের কথা অবশ্যই প্রচারে তুলে ধরব।’

এদিকে, প্রশাসন ও তৃণমূলের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগীর পরিজনরা। রোগীর আত্মীয় সঞ্জয় পাল বলেন, ‘স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড ছিল না। আর্থিক সংকটের কারণে নার্সিংহোমে চিকিৎসা করাতে সমস্যা হচ্ছিল। এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে আমরাও যোগাযোগ রাখি। দ্রুত স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড করানো হবে বলেই রোগীকে আলিপুরদুয়ারে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন সবার সহায়তায় যেভাবে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড করে দেওয়া হল, তাতে আমরা খুশি। ’