হুক্কার হাতছানি নিয়ে নীরব প্রশাসন

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : সময়ের সঙ্গে আধুনিক হয়ে উঠছে শহর শিলিগুড়ি। জীবনযাত্রার মানে আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে গজিয়ে উঠেছে একাধিক পাব। নাচ-গানের রংমেশালি এই পাবগুলির দিকে ঝুঁকেছে শহরের যুবসমাজের একাংশ। সময় এবং অর্থ পেলেই তাঁদের কাছে পাবগুলি হয়ে উঠছে ডেস্টিনেশন। তবে শুধু খানাপিনা কিংবা হইহুল্লোড়ই নয়, যুবসমাজকে আকৃষ্ট করতে পাবগুলির একাংশে আইনবিরুদ্ধভাবে খুল্লমখুল্লা চলছে হুক্কার ব্যবসা। আকর্ষণের মাত্রা বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফ্লেভার। যুবসমাজের কাছে হুক্কার এই সুখটান স্টেটাস হয়ে ওঠায় ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন শহরের চিকিৎসক মহল। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ শহরের নাগরিক সমাজ।

যে কোনো জনবহুল এলাকায় (হোটেল, রেস্তোরাঁ, পাব, দোকান) হুক্কা সেবন নিষিদ্ধ। দার্জিলিংয়ের প্রাক্তন জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তবের আমলে জনবহুল এলাকায় সিগারেট নিষিদ্ধ হয়েছিল। যদিও মাটিগাড়ার একটি শপিং মলে থাকা পাব-এ সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত বাড়ার সঙ্গেই যেন নাচ-গান ও আলোর রংমিলান্তির সঙ্গে হুক্কার বিষাক্ত ধোঁয়া একাকার হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মেনুতে হুক্কার নাম না থাকলেও ইশারাতেই বেরিয়ে আসছে হুক্কা স্পেশাল মেনু। পটের (বোতল) আয়তন হিসেবে ৮০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যেই মিলে যাচ্ছে হুক্কা। এক্ষেত্রে বড়ো পটে দশ থেকে বারোজন হুক্কা সেবন করতে পারছেন। ছোটো পটে সুখটান দিতে পারছেন চার থেকে পাঁচজন। একইরকমভাবে শহরের সেবক রোডের শাখালু সিং রায় রোড সংলগ্ন দুটি পাব-এও নাচ-গানের সঙ্গে হাতের কাছে মিলছে হুক্কার পাইপ।

- Advertisement -

যুবসমাজের মনকে আকর্ষণীয় করতে ব্যবহার করা হচ্ছে আম, ভ্যানিলা, পান-এর মতো কুড়িটিরও বেশি ফ্লেভার। এক্ষেত্রে অবশ্য পটের আয়তনের পাশাপাশি ফ্লেভার হিসেবে দাম আলাদা থাকছে। যেমন পান, চকোলেট  ফ্লেভারের বড়ো পটের দাম রয়েছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে ছোটো পটের দাম ১০০০ থেকে ১২০০-র মধ্যে। কম দামের পর্যায়ে অবশ্য রয়েছে কলা, স্ট্রবেরির মতো ফ্লেভার।

এদিকে, হুক্কার প্রতি যুবসমাজের প্রতিনিয়ত আকর্ষণ বেড়ে চলায় আশঙ্কিত শহরের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ শেখর চক্রবর্তী। তিনি বলেন, হুক্কা টানায় সবচেয়ে বেশি ফুসফুসের উপর প্রভাব পড়ছে। ব্রংকাইটিস থেকে শুরু করে ফুসফুসে ক্যানসার পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু ফুসফুসই নয়, শরীরের মূত্রথলি থেকে শুরু করে যে কোনো অঙ্গেই এর প্রভাব পড়ছে। এমনকি হুক্কা বেশি টানলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা রয়েছে। খাদ্যনালিতে আলসার পর্যন্ত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, হুক্কাগুলিতে ফ্লেভার হিসেবে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার হওয়ায় শরীরের ভিতর যে কোনো অংশে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি।  সরকারি নির্দেশ অমান্য করে হুক্কার ব্যবসা চালানো এই পাবগুলিকে চিহ্নিত করে প্রশাসনিক স্তরে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

একই বক্তব্য শহরের সাংস্কৃতিক মহলের। নাট্যকার পার্থ চৌধুরি বলেন, শহরের যেটুকু অবক্ষয় ঘটেছে তার কারণ হিসেবে এই পাবগুলির দায় বেশ অনেকটাই রয়েছে। পাব মালিকরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্টের সঙ্গে হুক্কার ব্যবসার মাধ্যমে সরকারি নির্দেশকে অমান্য করছেন। অথচ  প্রশাসন জানে না, এটা হতে পারে না। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া। দার্জিলিংয়ে জেলাশাসক দীপাপ প্রিয়া পি বলেন, আমার কাছে এখনও এরকম অভিযোগ আসেনি। তবে আধিকারিকদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিচ্ছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অবশ্যই নেওয়া হবে।